কাজী এনায়েত উল্লাহ
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় যাদের, সেই প্রবাসীরা আজ কেবল ‘রেমিট্যান্স পাঠানোর যন্ত্র’ হিসেবে মূল্যায়িত হতে রাজি নন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই দেশপ্রেমিকদের দাবি-রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো করুণা নয়, বরং দেশের উন্নয়নে তাদের বিশাল ত্যাগের বিপরীতে এক ন্যায্য অধিকার।
মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান ও প্রিয়জনদের মায়া ত্যাগ করে বিদেশের মাটিতে একাকী জীবন কাটান প্রবাসীরা। তাদের পাঠানো অর্থে কেবল তাদের পরিবারই নয়, টিকে আছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য এবং টাকার মান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে তাদের মূল্যায়ন হয় কেবল ‘শ্রমিক’ হিসেবে। অথচ তাদের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের ওপর নির্ভর করে যারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকেন, তারাই হয়ে ওঠেন সমাজের হর্তাকর্তা। এই বৈষম্য দূর করতে প্রবাসীদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের মতামতের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন নেই। এই সংকট উত্তরণে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে প্রবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদীয় আসন বরাদ্দের দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরাসরি সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলে।
রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা ও সিন্ডিকেট নির্মূল করা সহজ হবে।
বিদেশে দূতাবাসগুলোর সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
প্রবাসীদের সম্পত্তি দখল ও দেশে তাদের স্বজনদের ওপর হয়রানি বন্ধ হবে।
প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত হবে।
প্রবাসীরা কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুসারী নন; তারা দেশের সম্পদ। তাই দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রতিটি দলের উচিত যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রবাসীদের মনোনয়ন দেওয়া। এতে রাজনীতিতে নতুন ধারার পরিবর্তন আসবে এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে। প্রবাসীদের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা দেওয়া হলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সংকট দূর হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি উন্নত ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।
একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যারা জাতীয় বাজেটের প্রধান ভিত্তি যোগান দেন, তাদের মতামত ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করা ‘অন্যায্যতা’। প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা মানে কেবল আসন বরাদ্দ নয়, বরং তাদের ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া। প্রবাসীরা আজ কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার।
কাজী এনায়েত উল্লাহত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীঢাকা ১৭ নির্বাচনি এলাকা
এমআরএম