নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ে করে নববধূ নিয়ে ফেরার পথে বর রতন সরদারকে (২৬) কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ফুলবতী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বাল্যবিয়ে করার দায়ে বর রতন সরদারকে (২৬) তিন মাসের কারাদন্ড দেন।
এছাড়া বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়নের কুমরুল গ্রামে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় কনের বাবা আব্দুর রশিদকে (৫০) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুই আদালত পরিচালনা করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর।
জানা যায়, বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করার পর বালিকাবধূ নিয়ে রওনা দেওয়ার সময় আকস্মিক কনের বাড়িতে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর। এ সময় বর ও কনেকে রেখে দ্রুত সটকে পড়েন তাদের অভিভাবক। পরে স্থানীয় অন্যান্য অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বরকে কারাদন্ডা এবং ১৪ বছর বয়সী কনেকে উপস্থিত স্বজনদের কাছে মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। দন্ডপ্রাপ্ত রতন সরদার বড়াইগ্রাম পৌরশহরের লক্ষীকোল এলাকার ইদ্রিস সরদারের ছেলে।
এর আগে উপজেলার জোয়াড়ি কুমরুল গ্রামের আব্দুর রশিদ তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবা আব্দুর রশিদকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
বড়াইগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক এ জে মিন্টু জানান, রাতেই দন্ডপ্রাপ্ত রতন সরদারকে নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর। বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন প্রযোগের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার কাজ অব্যাহত থাকবে।
রেজাউল করিম রেজা/এএইচ/এমএস