ক্ষমতার মোহে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে বর্তমানে আওয়ামী লীগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো এত বড় আত্মত্যাগের সুফল আমরা আজও পুরোপুরি পাইনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী গণতন্ত্রও ছিল তাদেরই নির্দেশিত। যার ফলে পরে একদলীয় কলঙ্কিত শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে নির্বাচনি পরিবেশ ও দেশের শান্তি বিনষ্টের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে যে সহিংস ঘটনাগুলো ঘটছে, তার পেছনেও পতিত স্বৈরাচার ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মদদ রয়েছে।
ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যার কারণে কোনো দেশের দূতাবাস তাদের কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। ভারত আমাদের দেশের এই পরিবর্তন ও নির্বাচন মেনে নিতে পারছে না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হবে। তবে কেবল নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটবে না। এর জন্য রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশকে পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা না গেলেও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে এবং ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন।
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অতিমাত্রায় বিদ্বেষ, কুৎসা ও আক্রোশ রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই সুযোগে গণহত্যাকারী পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী নির্বাচনকে বিতর্কিত ও ভণ্ডুলের চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখন থেকেই সজাগ থাকতে হবে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। রানার আপ হয়েছে ইডেন মহিলা কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের দলনেতা মাসনুন নাবিলাহ আলম।
চ্যাম্পিয়ন দলকে দুই লাখ টাকা, রানার আপ দলকে দেড় লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে এক লাখ টাকা নগদ অর্থসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক কাজী হাফিজ, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও আফরিন জাহান।
ইএআর/ইএ