তথ্যপ্রযুক্তি

নতুন গাড়ি কেনার পর করণীয়

নতুন গাড়ি কেনা জীবনের একটি অন্যতম আনন্দময় মুহূর্ত। নিজের গাড়ি হাতে পাওয়া মানেই স্বাধীনতা, যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নতুন যাত্রার শুরু। তবে গাড়ি হাতে পাওয়ার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা জরুরি, যাতে গাড়ি ব্যবহার নিরাপদ, আইনি এবং ঝামেলামুক্ত থাকে। সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে গাড়ি দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

জেনে নিন নতুন গাড়ি কেনার পর কোন কাজগুলো আপনাকে করতে হবে-

১. গাড়ি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করানতুন গাড়ি কেনার পর প্রথম কাজ হলো গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করানো। ডিলারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনভয়েস এবং ঠিকানা প্রমাণ জমা দিয়ে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা হয়। দেশের সব বিভাগীয় জেলা ছাড়াও সব জেলা পর্যায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অফিসে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি রাস্তায় চালানো আইনত অনুমোদিত নয়। রেজিস্ট্রেশন বই বা আরসি ফাইল অবশ্যই হাতে নেওয়া উচিত, যাতে প্রয়োজনে গাড়ির মালিকানা প্রমাণ করা যায়।

নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-আমদানিসংক্রান্ত সব কাগজ, ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ক্রেতার টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিটি নম্বর) সনদের অনুলিপি, তিনটি স্ট্যাম্প আকারের ছবি।

২. বিমা নিশ্চিত করানতুন গাড়ি চালানোর জন্য বিমা বাধ্যতামূলক। সাধারণত থার্ড পার্টি বিমা অথবা কমপলালসারি বিমা করা হয়। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও নিরাপত্তার জন্য বিমা পলিসি থাকা অপরিহার্য। এছাড়া বিমার কাগজপত্র গাড়িতে সঙ্গে রাখা প্রয়োজন এবং নবায়ন তারিখ মনে রাখলে ভবিষ্যতে ঝামেলা এড়ানো যায়।

৩. ট্যাক্স ও ফি পরিশোধ করাগাড়ি কেনার সঙ্গে সঙ্গে মোটর ভ্যাট এবং অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। ট্যাক্স স্টিকার গাড়িতে ঠিকভাবে লাগানো থাকলে আইনগত সমস্যা এড়ানো যায়। এছাড়া টোল এবং অন্যান্য চার্জও সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি।

৪. গাড়ি ডেলিভারি ও ফিজিক্যাল চেকগাড়ি হাতে নেওয়ার সময় শরীর ও যান্ত্রিক পরীক্ষা করা আবশ্যক। গাড়ির বডি, পেইন্ট, লাইট, হর্ন, টায়ার এবং স্পেয়ার টায়ার ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিন স্টার্ট করুন এবং ব্রেক, ক্লাচ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন চেক করুন। ডিলারের সঙ্গে গাড়ির সার্ভিস বুক ও গ্যারান্টি সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করুন।

৫. ফাইন্যান্স ও লোন সংক্রান্ত কাজযদি গাড়ি ঋণ বা লিজে কেনা হয়, তাহলে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। প্রথম কিস্তি জমা দেওয়া এবং কিস্তির শিডিউল নিশ্চিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সব লোন সংক্রান্ত নথি নিরাপদ স্থানে রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয়।

৬. গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণনতুন গাড়ি প্রথম চালানোর আগে ইঞ্জিন তেল, কুল্যান্ট ও অন্যান্য ফ্লুইড পরীক্ষা করুন। প্রথম ১,০০০-১,৫০০ কিমি ‘ব্রেক ইন পিরিয়ড’ মেনে গাড়ি চালানো ভালো। ডিলারের নির্দেশিত সময়মতো প্রথম সার্ভিস করানো নিরাপদ ও গাড়ির আয়ু দীর্ঘ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৭. নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাগাড়ির সীটবেল্ট, এয়ারব্যাগ এবং অন্যান্য সেফটি ফিচার পরীক্ষা করুন। গাড়িতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখা জরুরি। পার্কিং এবং রাস্তায় নিরাপদভাবে গাড়ি ব্যবহার করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৮. প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ ও নথি সংরক্ষণগাড়ির স্পেয়ার টায়ার, জ্যাক, টুল কিট সব ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইনভয়েস, রেজিস্ট্রেশন ও বিমার কপি গাড়িতে রাখুন। প্রয়োজনে গাড়ির জন্য জিপিএস বা ট্র্যাকিং ডিভাইস সংযোজন করা যেতে পারে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

আরও পড়ুনকতদিন পর পর গাড়ি পরিষ্কার করানো ভালোটেসলা সাইবারট্রাক কেন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

কেএসকে