বেশ কিছুদিন থেকে সোনার বাজার যেন রোলার কোস্টারে চড়ে আছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। কেউ তাই সোনা কেনা কমিয়েছেন, আবার কেউ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ঝুঁকেছেন এই মূল্যবান ধাতুর দিকেই।
সম্প্রতি সোনার দাম উঠেছিল প্রায় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। এমন অস্থির বাজারে রোজই সোনার দাম নিয়ে সংবাদ দেখছি ও পড়ছি আমরা সবাই। তবে কখনও এই দাম ভরিতে, কখনও গ্রাম বা ট্রয় আউন্সে বলা হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। তাই সোনার দাম কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং এই এককগুলো কীভাবে হিসাব করতে হয়, তা জানা না থাকলে বিভ্রান্ত হওয়াই স্বাভাবিক।
১. ট্রয় আউন্সএই বিভ্রান্তির বড় একটি কারণ হলো সোনার ওজন মাপার একক। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রূপার মতো দামি ধাতুর ওজন নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় ‘ট্রয় আউন্স’। কিন্তু এটি আমাদের পরিচিত সাধারণ আউন্সের মতো নয়।
সাধারণ এক আউন্সের ওজন ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম হলেও, এক ট্রয় আউন্সের ওজন ৩১ দশমিক ১০ গ্রাম। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশীয় বাজারের হিসাব মিলাতে গিয়ে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।
বাংলাদেশে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত একক হলো ‘ভরি’। বিয়ের গয়না হোক বা পারিবারিক সঞ্চয় - ভরি শব্দটি এখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংখ্যার হিসেবে এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম। আবার ২ দশমিক ৪৩ ভরি মিলে হয় এক ট্রয় আউন্স। এর পাশাপাশি রতি ও আনা এককও প্রচলিত। আট রতিতে এক আনা এবং ১৬ আনায় এক ভরি।
ঐতিহাসিকভাবে ভরি, রতি ও আনার ব্যবহার শুরু হয় ব্রিটিশ আমলের আগেই। আন্তর্জাতিক দশমিক পদ্ধতি আসার বহু আগে এই অঞ্চলের মানুষ এসব এককে হিসাব করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই আজও অনেকের কাছে গ্রাম বা আউন্সের চেয়ে ভরি দিয়ে হিসাব করাই বেশি স্বস্তির।
সোনার দাম বুঝতে হলে শুধু টাকার অঙ্ক নয় - এককের হিসাবটাও জানা জরুরি। ভরি, গ্রাম আর ট্রয় আউন্সের এই সম্পর্ক পরিষ্কার থাকলে সোনার বাজার আর ততটা জটিল মনে হবে না।
সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা
এএমপি/জেআইএম