আন্তর্জাতিক

দাম কমছে চামড়ার পণ্য-ওষুধ-মোবাইলের, দাম বাড়লো কীসের?

ভারতের সংসদে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এ নিয়ে টানা নবম বারের জন্য বাজেট পেশ করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয় বার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে তার সরকার।

বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের ব্যয় বরাদ্দকে কেন্দ্র করে আমজনতা থেকে শুরু করে শিল্প সংস্থার মধ্যে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে ছিল। রোববার সকাল ১১টার দিকে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন নির্মলা। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির কাছে যান তিনি।

তবে নির্মলার বাজেটে প্রত্যাশার পতন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যেমন বড় কোনো ঘোষণা নেই, তেমনই হতাশ করদাতারাও। তবে নিয়মমাফিক কিছু জিনিসের দাম কমতে চলেছে। অন্যদিকে অনেক জিনিসের দামও বাড়ছে।

সরকার বিশেষ কিছু ওষুধ, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে, ফলে সেগুলো সস্তা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘড়ি এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়সহ বিলাসবহুল পণ্যের ওপর আরও কর আরোপ করা হবে। ফলে সেসব পণ্য আরও দামি হবে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কোন কোন জিনিসের দাম বাড়ছে আর দাম কমছে কোন কোন জিনিসের।২০২৬-২৭ সালের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, শুল্ক কমানো হবে বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর। ফলে বিমানের যন্ত্রাংশের দাম কমবে।

বেশ কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য যেমন- মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশের ওপরও শুল্ক কমানো হয়েছে। অর্থাৎ দাম কমতে পারে মাইক্রোওভেনের। আমদানিকৃত বেশ কিছু পণ্যে কম শুল্ক আরোপ করা হবে।

বেশ কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে এই ওষুধগুলোর দাম কমবে। দাম কমবে অন্যান্য কিছু রোগের ওষুধেরও।

শুল্ক কমানোর ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে চলছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে।মোবাইল তৈরির বেশ কিছু জিনিস সস্তা হওয়ায় ভারতে তৈরি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট সস্তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুল্ক কমানোর ফলে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানি করা কিছু পণ্যের দামও কমতে পারে।

২০২৬ সালের বাজেট বক্তৃতায় দেশের চামড়া রফতানিকে উৎসাহিত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব করেছেন নির্মলা। ফলে চামড়াজাত পণ্যের দাম কমতে পারে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপের মুখে পড়া চামড়া রফতানিকারকদেরও সুবিধা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুল্ক কমানোয় বিদেশেভ্রমণ এবং শিক্ষার খরচও কমছে। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এমন অনেকেরই প্রত্যাশাপূরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু ছাড়ের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা। ফলে পরমাণু বিদ্যুতের দাম কমতে পারে। ভারতীয় জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে।

অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়র বর্জ্য এবং কিছু খনিজ পদার্থের ওপর শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়েছে। কিছু জিনিসের দাম যেমন কমেছে, তেমনই দাম বাড়ছে বেশ কিছু জিনিসের। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বিলাসবহুল ঘড়ি।

আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে বিদেশ থেকে আমদানি করা মদ। ফলে নামী বিদেশি সংস্থার মদ পছন্দ করেন এমন লোকজনের খরচ বাড়তে চলেছে।

সরকার কফি রোস্টিং, ব্রিউইং এবং ভেন্ডিং মেশিনের ওপর থেকে ছাড় তুলে নিয়েছে। তা আরও ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দাম বাড়তে চলেছে বেশ কিছু সারের।

আমদানি করা টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণের অন্যান্য সরঞ্জামের দামও বাড়তে চলেছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মুখে শোনা গেছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্তুতি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তা ও সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি প্রদানের কথা বলে একাধিক ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, বলার মতো তেমন কোনো বড় ঘোষণা এই বাজেটে করেননি অর্থমন্ত্রী। ফলে প্রত্যাশাপূরণ হয়নি সাধারণ মানুষের।

টিটিএন