ক্যাম্পাস

বন্দরের বিদেশি লিজ বাতিলের দাবি স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।

একই সঙ্গে দেশবিরোধী এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় সরকারকে আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমাতে শ্রমিক নেতাদের ট্রান্সফারসহ সরকারি নির্দেশে নানা ধরনের দমন-পীড়নের অভিযোগও তোলা হয়।

জিয়াউল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)’ ইসরায়েল-ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের একটি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দুইটি ধাপ মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে এবং সোমালিয়া, ইউক্রেন কিংবা সুদান-ইয়েমেনের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পরিণত করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল ‘টার্মিনাল অপারেটর’ হিসেবে নয়, বরং আফ্রিকান মডেল অনুসরণ করে ৩০ থেকে ৪০ বছরের জন্য ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্ভিক্ষ এবং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।’’

জিয়াউল হক অভিযোগ করেন, ‘উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বিডের সুযোগ না দিয়ে আওয়ামী রেজিমের অনুসৃত পথেই অনৈতিকভাবে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা চলছে। সিঙ্গাপুর বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টার্মিনালস ও মেডলগের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই চায় না চট্টগ্রাম বন্দর একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। বরং রিজিয়নাল হাব হওয়ার পথ রুদ্ধ করতেই দেশি-বিদেশি লবিস্টরা বন্দরটি বিদেশি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে সক্রিয় রয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘অবিলম্বে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আমরা তীব্র আন্দোলন শুরু করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুব, আল আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এফএআর/ইএ