নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের নিয়ে অতিকথনে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাদের ‘গাইনোকলজিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘নির্বচানি প্রচারণায় আমরা দেখছি, আমাদের ডাক্তারদের মধ্যে যেমন গাইনোকলজিস্ট আছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা সব গাইনোকলজিস্ট। তারা নারী ছাড়া আর কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন না।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক মানবন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নারী ইস্যুতে অগ্রহণযোগ্য বক্তব্যের প্রতিবাদে’ সংগঠনটি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধন শেষে তারা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে এসে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানবন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রোহানা বেগম, মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস প্রমুখ।
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নির্বাচন সামেনে রেখে দেশজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রচার করছেন- তোমরা যদি আমাদের ভোট না দাও তাহলে তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেব। আমাদের অবশ্যই ভোট দিতে হবে। এটি হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচার ভাষা!’
এ ধরনের সহিংস ও ভীতিকর প্রচার ভাষা ভোটের পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। নির্বাচন কমিশনের এখানে তেমন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না এমন প্রচারণায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নেতৃত্ব কে দেবেন? যে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন তিনি নেতৃত্ব দেবেন। যার সাহস আছে, যে সংকট মোকাবিলা করতে পারবেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন সেই নেতৃত্ব দিতে পারেন। তিনি একজন নারীও হতে পারেন, তিনি একজন পুরষও হতে পারেন।
রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের বিরোধিতা করে মহিলা পরিষদের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে- ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করবেন না। এটা করার মধ্যে দিয়ে আপনার ধর্মকে কুলষিত করছেন, রাজনীতিকে প্রতিহিংসা পরায়ণ করে তুলছেন। ধর্মের নামে যারা আজ নারীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, সমাজে দ্বিদ্বা সৃষ্টি করছেন, সমাজের বিদ্বেষ সৃষ্টি করছেন, তাদের বক্তব্য তারা (ইসি) কীভাবে গ্রহণ করছেন আমরা তা জানতে চাই। আমরা চাই একটা সুষ্ঠ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার আসুক সেই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণ যেন তার দাবি দেওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে পারে।
ইএইচটি/এমআইএইচএস