ত্রয়োদশ নির্বাচনকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়; বরং এটি স্বাধীনতা ও আজাদির পক্ষ বেছে নেওয়ার লড়াই।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভোট হবে দুটি। একটি স্বাধীনতার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট, অন্যটি গোলামির বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট। মা-বোনদের মর্যাদা রক্ষা ও দেশে ইনসাফ কায়েমে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।”
রাজনীতির শুদ্ধাচার নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাজনীতি মানে ব্যবসা বা চাঁদাবাজি নয়। যারা বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী তরুণদের হাতে আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দিতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে এক নতুন সূর্য উদিত হবে, যার রায় সাধারণ মানুষ ১২ তারিখেই দিয়ে দেবে। আমরা সুখে-দুঃখে দেশের মাটি কামড়ে পড়ে আছি এবং থাকবো। আমরা দেশবাসীর বুকেই আশ্রয় চাই।’
বক্তব্যে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির। যার মধ্যে রয়েছ উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরকে আধুনিকায়ন করা।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন। এর আগে সকালে তিনি কুড়িগ্রামে অপর এক জনসভায় বক্তব্য দেন।
আমিরুল হক/এসআর/এএসএম