আন্তর্জাতিক

ত্রিদেশীয় বৈঠক: ৩১৪ যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মতি

দীর্ঘ চার বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দ্বিতীয় দফা ত্রিদেশীয় আলোচনা চলছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ বৈঠকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এ বৈঠকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গুরুত্বপূর্ণ বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়া। এতে ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গত পাঁচ মাসের মধ্যে এটিই প্রথম এমন বন্দি বিনিময়ের চুক্তি।

স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনার মাধ্যমে এই ফলাফল এসেছে। যদিও এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে, তবু এ ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাস্তব ফল দিচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে প্রস্তাবে মার্কিন মধ্যস্থতায় ত্রিদেশীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই আলোচনা শুরু হয়। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উমেরভ জানিয়েছেন, প্রথমে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে এবং পরে নির্দিষ্ট ইস্যুভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রুপে আলোচনা চলবে। এসব আলোচনার পর অবস্থান সমন্বয়ের জন্য আবার যৌথভাবে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির স্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে আমরা সম্মানজনক ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছি।’ আলোচনার প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি রাষ্ট্রপ্রধানকে জানানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গত ২৩–২৪ জানুয়ারি আবুধাবিতেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনাকে গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেছিল কিয়েভ ও ওয়াশিংটন। তবে মস্কো জানিয়েছিল আলোচনা ইতিবাচকভাবে শুরু হলেও সামনে এখনও অনেক কাজ বাকি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কে এম