হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের নেতা ও প্রভাবশালী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইকে তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন চীনের আদালত। চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে থাকা তিনটি অভিযোগেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আগামী সোমবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) বিচার বিভাগ এসব মামলার রায় দেওয়া হবে বলে
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে তিনজন বিচারকের একটি বেঞ্চ জানিয়েছিলেন, ৭৮ বছর বয়সি লাই বিদেশি শক্তির যোগসাজশে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছেন। নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার অভিযোগে দুটি ধারায় এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক প্রকাশনার জন্য একটি ধারায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন লাই।
বিচারক এসথার তো বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন জিমি লাই। ৮৫৬ পৃষ্ঠার রায়ে তাকে একটি অপরাধী চক্রের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আদালতে বিচারক বলেন, লাই বহু বছর ধরেই চীনা রাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছেন।
জিমি লাই প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকাটি ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে এবং হংকংয়ের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রপন্থি সংবাদপত্রে পরিণত হয়। মামলায় পত্রিকাটির ১৬১টি প্রতিবেদনকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৫৬ দিন ধরে চলা এই বিচারে লাই নিজে ৫২ দিন সাক্ষ্য দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানোর অভিযোগ সত্য নয়।তবে এসব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জিমি লাই।
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। ওই সময় হংকংয়ে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল।
এই মামলাকে হংকংয়ের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের হাতে হস্তান্তরের পর এই নীতির আওতায় হংকংকে আলাদা প্রশাসনিক ও শাসনব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ফলে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
২০২০ সালে প্রণীত হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইন ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ ও ‘ক্ষমতা উৎখাত’-এর মতো অভিযোগে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে শি জিন পিং প্রশাসন।
সূত্র : আল-জাজিরা
কেএম