আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ভিডিওতে ‘বানর’ রূপে ওবামা দম্পতি, বিতর্কের ঝড়

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি নির্বাচন-ষড়যন্ত্রমূলক ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানর হিসেবে দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতারা তীব্র নিন্দা জানান।

এক মিনিট দীর্ঘ ভিডিওটির শেষে প্রায় এক সেকেন্ডের জন্য ওবামা দম্পতির মুখ বানরের শরীরে বসানো অবস্থায় দেখানো হয়। ভিডিওতে ওই মুহূর্তে পটভূমিতে বাজছিল গান ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’।

ভিডিওটি পুনরায় প্রচার করেছে সেই ‘মিথ্যা অভিযোগ’, যাতে দাবি করা হয় ব্যালট গণনাকারী প্রতিষ্ঠান ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস ২০২০ সালের নির্বাচন ট্রাম্পের কাছ থেকে চুরি করতে সহায়তা করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ট্রাম্পের প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি কয়েক হাজারবার লাইক পেয়েছে।

ভিডিওটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের দপ্তর। এই নিউসাম ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ট্রাম্পের কড়া সমালোচক।

নিউসামের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের ঘৃণ্য আচরণ। প্রতিটি রিপাবলিকানকে এখনই এর নিন্দা করতে হবে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী বেন রোডসও। তিনি এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্প ও তার বর্ণবাদী অনুসারীদের মনে গেঁথে থাকুক এ সত্য যে ভবিষ্যতের আমেরিকানরা ওবামা দম্পতিকে স্নেহের সঙ্গে স্মরণ করবে, আর ট্রাম্পকে ইতিহাসের কলঙ্ক হিসেবে দেখবে।

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ও ২০২৪ নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে প্রচারণায় সমর্থন করেছিলেন।

এআই-নির্মিত ভিজ্যুয়াল

হোয়াইট হাউজে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাইপার-রিয়্যালিস্টিক কিন্তু ভুয়া ভিজ্যুয়াল ব্যবহারের হার বাড়িয়ে দেন। এসব পোস্টে তিনি নিজেকে মহিমান্বিত করেছেন ও সমালোচকদের ব্যঙ্গ করেছেন।

উসকানিমূলক এসব পোস্ট ব্যবহার করে তিনি তার রক্ষণশীল সমর্থকদের আরও সংগঠিত করেন।

গত বছর ট্রাম্প এআই-নির্মিত একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে দেখা যায় বারাক ওবামাকে ওভাল অফিস থেকে গ্রেফতার করে কমলা রঙের পোশাক পরিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পরে ট্রাম্প হাউজ মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিসকে নিয়ে বানানো একটি এআই ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে ভুয়া গোঁফ ও সাম্ব্রেরো পরা অবস্থায় দেখানো হয়। কৃষ্ণাঙ্গ জেফ্রিস ওই ভিডিওটিকে বর্ণবাদী বলে আখ্যায়িত করেন।

হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই বৈচিত্র্য, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রচারণা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সব ডিইআই কর্মসূচি বন্ধ করে দেন, যার মধ্যে সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট নীতিগুলিও ছিল।

সশস্ত্র বাহিনী থেকে তার কথিত ‘ওয়োক’ উদ্যোগ সরিয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যের ইতিহাস নিয়ে লেখা বহু বই সামরিক একাডেমির বুকশেলফ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচির জন্ম ১৯৬০-এর নাগরিক অধিকার আন্দোলন থেকে, যা মূলত কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা শত শত বছরের দাসত্ব ও পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সমতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে করেছিলেন। দাসত্ব ১৮৬৫ সালে বিলুপ্ত হলেও পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ চালু ছিল।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ