রাজনীতি

বিএনপির ইশতেহারে ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতি: আইসিটি-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জোর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এতে দলটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভাবনায় একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় শিল্প ৪.০ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উৎপাদন, সেবা, বাণিজ্য ও সরকারি প্রশাসনে দ্রুত বাড়ছে এআই, স্বয়ংক্রিয়তা, ডেটা বিশ্লেষণ ও রোবটিকসের ব্যবহার। বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট, দলটি আইসিটিকে কেবল সহায়ক খাত হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।

ইশতেহারে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক এআই হাবে রূপান্তরের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে।

আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকারকে বিএনপির অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, কাজের মান, আয়ের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার বিষয়েও নজর দিতে হবে।

ইশতেহারে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে একটি দক্ষ ও বহুমুখী আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে সফটওয়্যার উন্নয়ন, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং থেকে। বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমবেডেড সিস্টেম, হার্ডওয়্যার নকশা এবং উন্নত প্রযুক্তিপণ্যের মতো উচ্চ মূল্য সংযোজিত খাতে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আইসিটি খাত নিয়ে বিএনপির প্রস্তাবগুলো একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবায়ন কাঠামো, সময়সূচি, বাজেট বরাদ্দ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় এখনো অস্পষ্ট। এসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত ধারাবাহিকতা, সুশাসনের স্বচ্ছতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর।

কেএইচ/এমআইএইচএস