দেশজুড়ে

রাজশাহীর ৩১ ভোটকেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের হিড়িক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি তাদের ভোট কেন্দ্র সংস্কারের জন্য ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। তবে সেই টাকায় তারা পুরো স্কুলের বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করেছে। এমনকি বাইরেও বাতি বসিয়েছে। স্কুলটিতে এর আগেও ভোট হলেও এবার তারা সংস্কারের টাকায় পুরো স্কুলের কাজ করেছেন।

চয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএন রিদওয়ান ফিরদাউস বলেন, আমার স্কুলের বৈদ্যুতিক বাতির দরকার ছিল। ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুতের মালামালসহ লাইট কেনার বাজেট দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই টাকায় আমরা লাইট লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, পুরো স্কুলেই লাইট এমনকি বাহিরের বড়ো বাতিও লাগিয়েছি। এখানে আমরা নিজেরাই এটি করেছি। কেউ কোনো দুর্নীতি করেনি। কোনো টাকা বেঁচে থাকলে সেটি আমরা আমাদের ওয়াল নির্মাণ করবো।

ভোটকেন্দ্রের সংস্কারের টাকায় স্কুল সংস্কার করা যাবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন বিভিন্ন লোকজন থাকে, তাদের আলোর দরকার হয়। তাই এগুলো করা হয়েছে।

নয়ন স্কুলের মতো রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার স্কুল তোকিপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে সংস্কারের জন্য বাজেট দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। অথচ স্কুলটি সেই টাকায় রং করেছে।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, স্কুলটিতে ৩টি দরাজা ও ৬টি জানালা সংস্কার করার দরকার ছিল। এগুলোর কোনোটির ফ্রেম ছিলো না, আবার কোনোটির কিছুটা আংশিক ছিল। এগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বাকি টাকা বেঁচে গিয়েছিল, সেই টাকায় আমরা স্কুলটি রং করেছি।

একইভাবে রাজশাহী জেলার ৩১ ভোটকেন্দ্রে ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখো গেছে, কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সরকারি ভবন থাকলেও পাশের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনকে সংস্কার করা হচ্ছে। কোনোটিতে আবার নির্মাণ জিনিস কেনার চেয়ে ব্যয়ের হার বেশি।

মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা বলেন, একদিন ফোন করে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বললেন, ভোটকেন্দ্রের জন্য আপনার স্কুলের জানালা দরজা ঠিক করা লাগবে, তালিকা দেন। আমি তখন ভাঙাচোরা জানালা দরজার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরে তিনি বাজেট দিয়েছেন। এখন এক সপ্তাহ ধরে কাজ করছে রাজমিস্ত্রি এবং কাঠমিস্ত্রি।

কবি কাজি নজরুল ইসলাম কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল করিম বলেন, আমাদের কলেজের কোনো কিছুই সংস্কার করার প্রয়োজন নেই। সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। সংস্কারের জন্য কোনো চাহিদাও দেওয়া হয়নি। অথচ সেখানে দেওয়া হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা।

একই অবস্থা রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও। সেখানে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। অথচ সেখানকার প্রধান শিক্ষক কিছুই জানেন না।

শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা কোনো চাহিদাপত্র দিইনি। উপজেলা থেকে একজন এসে দেখে লিখে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা তার কোনো চিঠি আমরা পাইনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। শুধু বাজেটগুলো ইউএনওর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তারাই এগুলো বিল করেছে। কোথায় কী হলো বা পরিশোধ হলো সেটি আমাদের জানা নেই। এটি ইউএনওরাই দেখভাল করবেন।

সাখাওয়াত হোসেন/এফএ/এমএস