জাতীয়

মধ্যরাতে নারীদের ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’

নারীদের কাঠামোগত নিপীড়ন, প্রাতিষ্ঠানিক নারীবিদ্বেষ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে রাজধানীতে ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’ থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শাহবাগ থেকে শুরু হয় ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’। এটি কাটাবন, সায়েন্সল্যাব ও ধানমন্ডি হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পুরো পথজুড়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন অংশগ্রহণকারী নারীরা। ‘নারী থেকে নারীতে বিদ্রোহ ছুঁয়ে যাক’, ‘দিনে হোক রাতে হোক, সামলিয়ে রাখ চোখ’, এমন স্লোগান দিতে দিতে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছান অন্তত একশ’ নারী।

পদযাত্রায় শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন।

সংসদ ভবনের সামনে পদযাত্রা শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন অধিকারকর্মী প্রাপ্তি তাপসী। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগে নারীরা থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর প্রশ্ন আবারও প্রান্তিক হয়ে পড়েছে।

সমাবেশে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী ও শিশু ধর্ষণের ৭ হাজার ৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জনসমাবেশ এবং নির্বাচনি প্রচারণায় প্রকাশ্যে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ালেও সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।

প্রাপ্তি তাপসী বলেন, বছরের পর বছর ধরে আইনে ভুক্তভোগী নারীর চরিত্রহননকারী ধারা বহাল থাকায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশকেও তনু হত্যার বিচার হয়নি। যৌন হয়রানির বিচার না পেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবন্তিকার মৃত্যু কিংবা চা শ্রমিকের মেয়ে প্রীতি উড়াং-এর ঘটনায় অভিযুক্তদের সহজ জামিন, সবই প্রমাণ করে বিচারব্যবস্থায় নারীর প্রতি বৈষম্য কতটা গভীর।’

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস, কল্পনা চাকমা কোথায়?’ এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র দিতে পারেনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তাদের কাছে প্রত্যাশা, নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে রাখা।

তবে তার প্রশ্ন, যে নির্বাচনি প্রক্রিয়াতেই নারীর অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ, সেই প্রক্রিয়া থেকে আসা সরকার আদৌ নারী প্রশ্নে ক্ষমতার চরিত্র ও রাজনীতির ভাষা বদলাতে পারবে কি না।

সমাবেশে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন প্রাপ্তি তাপসী।

জেপিআই/এসএনআর/এমএস