গণভোট নিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য দুঃখজনক ও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক সম্প্রতি এক খুতবায় বলেছেন, যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে, তার মানে জনগণের ‘না’ ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করলেও, ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়।
খতিবের এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যারা এখন দায়িত্বে আছি—বায়তুল মোকাররমের খতিব, ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিজি, ট্রাস্টি বোর্ড, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্ট, ইমাম মসজিদ কল্যাণ ট্রাস্ট, যাকাত বোর্ড, বোর্ড অব গভর্নরস—সব অফিসার ও কর্মকর্তাই আমার অনুমোদনক্রমে প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিতে এবং রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োজিত। আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল হতে হবে। সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’
আরও পড়ুনএবার দুটি প্যাকেজের হজযাত্রীদের ৩ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারবো
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সবসময় সচেতন। আগেও একবার ট্রাস্টের একজন গভর্নরস বোর্ডের সদস্য একটি বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন, যার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন তাকে পথ ছেড়ে দিতে বা ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়, তিনি ব্যাখ্যা দেন। বায়তুল মোকাররম একটি জাতীয় মসজিদ, জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান খতিব একজন প্রাজ্ঞ আলেম, হাদিস বিশেষজ্ঞ ও ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্সের গবেষক। তার বহু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি দরবেশ প্রকৃতির মানুষ এবং সারাদেশে সম্মানিত। বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে তিনি পুরো জাতির শ্রদ্ধাভাজন।’
‘এখন যদি তার কোনো বক্তব্য কোনো দলের বিরুদ্ধে যায় বা সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে যায়, তা দুঃখজনক এবং ঠিক নয়। আমরা চাই বায়তুল মোকাররমের খতিবের পথ বিতর্কমুক্ত থাকুক। সব ধর্ম, মত ও গোষ্ঠীর মানুষ যেন এই অবস্থানকে সম্মান করে। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হোক বা সরকার বিব্রত হোক—এমন পরিস্থিতি আমরা কামনা করি না। বিষয়টি যেহেতু গণমাধ্যমে এসেছে, তিনিও নিশ্চয়ই তা অনুধাবন করবেন।’
খালিদ হোসেন বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যারা প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল হওয়া এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয়—এমন কোনো মন্তব্য থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।’
বাইতুল মোকাররম মসজিদের খতিবের পদটি রাজনৈতিক নয় জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি পুরোপুরি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক। খতিব নিজেও কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। তিনি সারা জীবন ইসলামি গবেষণায় নিয়োজিত থেকেছেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেই নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আমরা আশা করি, আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত, প্রত্যেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং সতর্ক থাকবেন, যেন কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয় এবং সরকার বিব্রত না হয়।’
আরএমএম/ইএ