‘জীবনটা তামাতামা হয়ে গেছে। রাত ৩টায় বাইপাইল, এখন দুপুর ১টা বাজে এখনও বাইপাইল। গাড়ি নাই, যাও পাওয়া যায় তার ভাড়াও কয়েকগুণ বেশি। দেখার কেউ নাই। শুধু আশ্বাস আর আশ্বাস। নির্বাচিত হলে এই করবো ওই করবো কাজের কাজ কিছুই না। প্রার্থীদের নিয়ে নানা ভাবনা নির্বাচন কমিশনের আর যারা ভোট দেবেন তাদের নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এভাবেই আশুলিয়ার বাইপাইলে অপেক্ষেমাণ কুড়িগ্রামের যাত্রী পোশাক কারখানার কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের জন্য বন্ধ দিয়েছেন এক যোগে। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ছুটে চলছেন নিদিষ্ট গন্তব্যে। কিন্তু কত যে ভোগান্তি তা এসির নিচে থাকা মানুষগুলো বুঝতে পারেন না। শতশত মানুষ বিভিন্ন পয়েন্ট। সরকার কী পারতেন না বিআরটিসি বা অন্য কোনো অতিরিক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করতে? আসলে ভোট হয়ত দেব কিন্তু সত্যিকারের নেতা পাবো কিনা জানি না।’
আব্দুল মালেক নামে অপেক্ষমাণ আরেক যাত্রী বলেন, ‘নেতা-নেত্রীদের দেখাতে বাস ভাড়া করে নিয়ে যায়। এখন ভোট দিতে বাড়ি যাবো কোন যানবাহন নেই। কেউ বাড়তি যানবাহনের ব্যবস্থাটুকু রাখার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।’
৪ বছরের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোর ৫টা থেকে দাঁড়িয়ে থাকা আফসানা মিমি বলেন, ‘সরকার আসলে উপরতলার, আমাদের মতো নিচু তলার মানুষদের দিকে তাকানোর সময় নেই। পুলিশের সামনে ভাড়া বেশি চাচ্ছে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নাম নেই।’
সাভার ও গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, উত্তরবঙ্গের যাওয়ার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে ভোগান্তি বেশি। বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের জটলা। রাত থেকে অদ্যবধী সড়কে যানবাহনের অপেক্ষায় শতশত যাত্রী। সড়কটির প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন ঘরমুখো পোশাক শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শেখ শাহজাহান বলেন, সড়কে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় অনেক মানুষ সড়কে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
মাহফুজুর রহমান নিপু/এমএন/এমএন