আগামী কয়েক দশকে ভারতে কয়লার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে পরবর্তীতে দেশটি ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগোলে কয়লার ব্যবহার দ্রুত কমে যাবে। ভারতের সরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক নীতি আয়োগের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বর্তমান নীতিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ভারতের কয়লার চাহিদা বেড়ে ২.৬২ বিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান ১.২৬ বিলিয়ন টনের দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রতিবেদন বলছে, ২০৭০ সালেও শিল্পখাতে কয়লার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে এবং তা প্রায় ১.৮০ বিলিয়ন টনে দাঁড়াতে পারে।
তবে ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ কার্বন নিঃসরণে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য অনুযায়ী, কয়লার ব্যবহার ২০৫০ সালে সর্বোচ্চ ১.৮৩ বিলিয়ন টনে পৌঁছে পরে কমে ২০৭০ সালে মাত্র ১৬১ মিলিয়ন টনে নেমে আসবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৭০ সালে অবশিষ্ট যে কয়লার ব্যবহার থাকবে, তা মূলত স্টিল ও সিমেন্টের মতো এমন খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে যেখানে কার্বন নিঃসরণ কমানো কঠিন। এসব ক্ষেত্রে কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ ভারত। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই কয়লাভিত্তিক। ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ভারত বর্তমানে ২১২ গিগাওয়াট থেকে ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০৭ গিগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদন সতর্ক করেছে, স্বল্পমেয়াদে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়লেও গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষা ও ব্যাকআপের জন্য কয়লা অপরিহার্য থাকবে।
কয়লার ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পারমাণবিক জ্বালানির সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির খরচ কমানো জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে অনেক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলেও সেগুলো কম সময় চালানো হবে এবং মূলত সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বা জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম