জাতীয়

সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন তরুণ ভোটাররা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এখন ফলাফলের অপেক্ষায় ভোটাররা। এ সময় প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জাগো নিউজ জানতে চেয়েছে তাদের প্রত্যাশা ও ভাবনা। নতুন ভোটারদের কণ্ঠে উঠে এসেছে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন—সমান মর্যাদা, নারীর নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিনিধিত্বের দাবি।

ভোটকেন্দ্রে কথা বলা কয়েকজন তরুণ-তরুণী জানান, তারা শুধু ভোট দেননি; ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশাও প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার লামিয়া তাহসিন রশিদ (২৩) প্রথমবার ভোট দিয়েছেন বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে সবাই মিলে মত প্রকাশ করতে পারছি, ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে—এটা সত্যিই আনন্দের। নারী-পুরুষ যেন সমানভাবে অধিকার ভোগ করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নারী বলে যেন বঞ্চনার শিকার না হই এবং নারীর অবদান যেন যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়।

তিনি আরও বলেন, নারী বলে বিশেষ সুবিধা নয়, আমরা সমান মর্যাদা চাই। নারীরা এগিয়ে যেতে চাইলে যেন কেউ বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

একই কেন্দ্রের আরেক প্রথমবারের ভোটার নামিরা আলম (২২) জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমবার ভোট দিয়ে ভীষণ এক্সাইটেড লাগছে। এটা নতুন এক অভিজ্ঞতা। নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে তার প্রত্যাশা—এলাকার উন্নয়ন, দুর্নীতি দূর করা এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নামিরা বলেন, রাস্তায় হাঁটতে গেলে যেন কেউ বাজে মন্তব্য করার সাহস না পায়, রাতে যেন আমরা নিরাপদ থাকি। পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নও জরুরি।

অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার লুলু মারজান দীনা জানান, এ আসনে তুলনামূলকভাবে বেশ কয়েকজন ভালো প্রার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাবিবুর রশিদ হাবিব, তাসনিম জারা ও রাসিনের নাম আলোচনায় থাকলেও কাস্তে, হাতপাখা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আরও অনেকেই ছিলেন। জারার বাইরে আরেকজন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীও ছিলেন।

গণভোট প্রসঙ্গে লুলু মারজান দীনা বলেন, ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব পড়ে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিছু পয়েন্টে একমত না হলেও অধিকাংশ বিষয়ে একমত হওয়ায় বৃহত্তর স্বার্থে হ্যাঁ ভোট দিয়েছি। তবে প্রতিটি সংস্কারের জন্য আলাদাভাবে হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করা উচিত ছিল—বলেন তিনি।

ঢাকা-১০ আসনের প্রথমবারের ভোটার মশিউর রহমান (১৮) বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে বলে আমার মনে হয়েছে। আশা করি তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে।

রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি তারা উন্নয়ন, জবাবদিহিতা ও সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করছেন।

জেপিআই/এমএমকে