সেই ৫০০০ বছর আগে ব্যাবিলনে মেসোপটেমিয়ান নারীরা প্রথম ঠোঁটে রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করা শুরু করে । তখন থেকেই লিপস্টিক দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। মেয়েরা বাসা থেকে বের হলে তেমন কোন সাজগোজ না করলেও ঠোঁটে লিপস্টিক দেয় না , এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ঠোঁটের উপর একটু সাজ পুরো মুখের লুকটাকেই চেঞ্জ করে দেয়।
নিজের জন্য পারফেক্ট লিপ শেড বেছে খুঁজে পেতে এক লিপস্টিক দিয়ে আবার তা মুছে ফেলে নতুন লিপ শেড দিয়ে নিজের জন্য মানানসই লিপ মেকআপ বেছে নেই। তবুও যেন নিজের ঠোঁটের জন্য পারফেক্ট লিপ মেকআপ পাই না। এমন দশা কমবেশি সবারই হয়েছে। আদতে নিজের জন্য পারফেক্ট লিপ মেকআপ বেছে নেওয়ার জন্য দরকার নিজের ঠোঁটের গড়ন সম্পর্কে জানা। ঠোঁটের আকার জানলেই সেই অনুযায়ী নিজের পারফেক্ট লিপ মেকআপ বেছে নিতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ঠোঁটের আকার অনুযায়ী কোন লিপ মেকআপ দিবেন-
হার্ট শেপ লিপহার্ট-শেপড ঠোঁটে সাধারণত নিচের ঠোঁটটি একটু বেশি ভরাট হয়, আর উপরের ঠোঁটের মাঝখানে ভি শেইপের মতো তীক্ষ্ণ বাঁকা থাকে। এই লিপ শেপে আরও ব্যালান্সড দেখাতে চাইলে নিচের ঠোঁটে একটু গাঢ় রঙের লিপস্টিক বা লিপ গ্লস ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঠোঁটের সামগ্রিকভাবে আরও সুন্দর ও সমান দেখাবে। প্রায় সব ধরনের রং ও ফিনিশই হার্ট শেপ লিপে ভালো মানায়। তাই ম্যাট, গ্লসি, নিউড বা বোল্ড সবকিছুই ট্রাই করতে পারেন। বিভিন্ন শেড ও ফিনিশ ব্যবহার করে দেখুন, কোন লুকটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মানায়।
বো বা ধনুক শেপ লিপবো শেপ লিপ দেখতে কিছুটা হার্ট শেপ লিপের মতো দেখতে হলেও এর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বো লিপ শেপে শুধু ওপরের ঠোঁটের মাঝখানে ভি বা ধনুক শেপ থাকে কিন্তু নিচের ঠোঁট সমান অথবা হালকা পুরু থাকে। তবে অবশ্যই হার্ট শেপ লিপের মতো নিচের অংশ বেশি পুরু থাকে না। বো লিপে পারফেক্ট মেকআপের জন্য লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের শেপ স্পষ্টভাবে আঁকুন। কারণ লিপ লাইনার ব্যবহার করলে ঠোঁটের প্রাকৃতিক আকৃতি খুব সুন্দরভাবে ডিফাইন করা যায়। এরপর নিজের ঠোঁটের স্বাভাবিক রঙের কাছাকাছি কোনো শেড ব্যবহার করলে লুকটা আরও ন্যাচারাল দেখাবে।
উপরের ঠোঁটের মাঝখানে যে স্পষ্ট ধনুক শেপ থাকে সেটাই বো শেপ ঠোঁটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। এই অংশটাকে আরও চোখে পড়ার মতো করতে ঠোঁটে সামান্য উজ্জ্বল বা বেশি পিগমেন্টেড লিপস্টিক কিংবা লিপ গ্লস ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঠোঁটের শেপটা আরও সুন্দর ও শার্প দেখাবে। বো শেপ ঠোঁট খুবই ফ্লেক্সিবল, তাই এতে প্রায় সব ধরনের রং ও ফিনিশ ভালো মানায়। তবে ঠোঁটে ম্যাট, গ্লসি, সাটিন বা ক্রিমি লিপস্টিক ট্রাই করতে পারেন।
রাউন্ড বা গোলাকৃতি লিপ শেপআপনার যদি রাউন্ড শেপ লিপ হয়ে থাকে তাহলে আপনার প্রথম কাজ হলো ম্যাট লিপস্টিক এড়িয়ে চলা। কারণ ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করলে রাউন্ড ঠোঁট অনেক সময় ছোট ও কম ভরাট দেখাতে পারে। তাই ম্যাটের বদলে গ্লসি বা সাটিন ফিনিশের লিপস্টিক বেছে নেওয়াই ভালো। এতে ঠোঁটের স্বাভাবিক ভরাটভাব আরও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
ঠোঁটকে আরও গ্ল্যামারাস করে তুলতে লিপ ব্রাশ ব্যবহার করুন। লিপ ব্রাশ ব্যবহার করলে লিপস্টিক বা লিপ গ্লস খুব নিখুঁতভাবে লাগানো যায়। এতে ঠোঁটের শেপ আরও পরিষ্কার ও ডিফাইন্ড দেখায় এবং লিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়া বা ব্লিড করার ঝামেলা কমে যায়। আপনি চাইলে ঠোঁট গোল শেপ রাখতে পারেন, আবার চাইলে একটু শার্প বা অ্যাঙ্গুলার শেপও তৈরি করে নিতে পারেন। তবে লিপস্টিক দিয়ে একটি অ্যাঙ্গুলার শেপ তৈরি করে নিলে ঠোঁট দেখতে কিছুটা লম্বা লাগে।
চিকন ঠোঁটের শেপআপনার যদি পাতলা বা চিকন ঠোঁট হয়ে থাকে তাহলে ডার্ক বা ম্যাট শেড এড়িয়ে চলুন।কারণ ডার্ক বা ম্যাট শেডের লিপস্টিক পাতলা ঠোঁটকে আরও ছোট এবং কম হাইলাইট পারে। তাই এর বদলে হালকা, গ্লসি বা সাটিন ফিনিশের শেড ব্যবহার করা ভালো। চিকন ঠোঁটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হাইলাইটার দিয়ে ঠোঁটে ভরাটভাব তৈরি করুন। ঠোঁটের কেন্দ্রে হাইলাইটার লাগালে ঠোঁট ভরা ও প্লাম্প দেখায়। উপরের ও নিচের ঠোঁটের মাঝখানে হালকা হাইলাইটার লাগিয়ে দেখুন, দেখবেন ফলাফল চমৎকার।
এছাড়াও চাইলে লিপ প্লাম্পার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ লিপ প্লাম্পার সাময়িকভাবে ঠোঁটকে ভরা ও ফুলে যাওয়া দেখাতে সাহায্য করে। চিকন ঠোঁটে, ঠোঁটের চারপাশে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য ঠোঁটের বর্ডার লাইনের চারপাশে সামান্য কনসিলার লাগালে ঠোঁট আরও ডিফাইন্ড এবং ভরা দেখায়। চেষ্টা করুন আপনার ত্বকের শেডের কাছাকাছি কনসিলার ব্যবহার করতে এবং ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে, যাতে লুকটা ন্যাচারাল থাকে।
তথ্যসূত্র: বি বিউটিফুল
জেএস/