দেশজুড়ে

‘গাউত’ গিয়েও ম্যাজিক দেখালেন আরিফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার শেষে মনোনয়ন নিশ্চিত হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। সেটাও সিলেট নগর ছেড়ে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে।

বিএনপিরই ভেতরে গুঞ্জন ছিল- আরিফের রাজনৈতিক ‘ক্যারিয়ার’ শেষ করতে সিলেট-১ আসন না দিয়ে সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে পরাজিত হলে আরিফ ‘গাউত’। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে আরিফের ভালো অবস্থান থাকবে না।

কিন্তু আরিফ তো আরিফই। মনোনয়ন পেয়েই ঘোষণা দিলেন সুর তুলতে তিনদিন লাগবে। এবার সেই সুরে তাল-ছন্দ যোগ করে ধানের শীষ নিয়েই ঘরে ফিরেছেন ম্যাজিক ম্যান আরিফ। ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। আর এর মধ্য দিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জাতীয় সংসদে গেলেন ম্যাজিকম্যান হয়ে।

শুধু তাই নয়, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে রাজনীতিতে উত্থান হওয়া আরিফ প্রমাণ করলেন সব ‘ফরম্যাটেই’ তিনি যোগ্য। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন পর সিলেট-৪ আসনটি বিএনপির দখলে ফেরালেন আরিফ।

আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তারও আগে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দু’বারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে দলটির চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এরপর সংসদ নির্বাচনে নামবেন কি না- এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাত থেকেই নেন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির টিকিট।

কিন্তু এ আসনটি আরিফের চেনা-জানা থাকলেও ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাকে ঠেকাতে বিএনপির আরেক নেতা হাকিম চৌধুরী প্রতিরোধের দেওয়াল গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু আরিফ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন- সুর তুলতে তিনদিন লাগবে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে তাক লাগিয়ে প্রতিরোধ দেওয়াল ভেঙে হাকিমকেও বশ করে নিলেন। অবশেষে সেই সুর তুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করেই ঘরে ফিরেছেন আরিফ।

২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফ। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।

নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও কল্পনা করতে পারিনি মাত্র দুই মাস কাজ করে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ আমাকে আস্থায় নিবে। যে আস্থা নিয়ে তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা কীভাবে পূরণ করবো সেই চিন্তা আমার মাথায় এখন থেকে কাজ করছে। তারা তাদের কাজ করেছে, এখন আমার দায়িত্ব তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।

তিনি বলেন, তারেক রহমান ওয়াদা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে আমাদের সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন। এখন আমি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তার কাছে এই তিন উপজেলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো।

এফএ/এএসএম