আন্তর্জাতিক

যেসব দেশে একই পরিবারে সদস্যরা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে একই পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন।

নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশের উদাহরণ দেওয়া হলো যেখানে একই পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন:

১. ভারত (নেহরু-গান্ধী পরিবার)

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশটিতে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে।

জওহরলাল নেহরু: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

ইন্দিরা গান্ধী: নেহরুর কন্যা (ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী)।

রাজীব গান্ধী: ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র।

২. বাংলাদেশ

শেখ ও জিয়া পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন।

৩. পাকিস্তান (ভুট্টো পরিবার)

পাকিস্তানে বাবা এবং মেয়ে—উভয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জুলফিকার আলী ভুট্টো: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

বেনজির ভুট্টো: জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা (মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী)।

৪. শ্রীলঙ্কা (বন্দরনায়েকে এবং রাজাপাকসে পরিবার)। দেশটিতে বংশপরম্পরায় ক্ষমতা দখলের একাধিক নজির আছে।

বন্দরনায়েকে পরিবার: এস.ডব্লিউ.আর.ডি. বন্দরনায়েকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে তাদের কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হন।

রাজাপাকসে পরিবার: মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫. কানাডা (ট্রুডো পরিবার)

উন্নত দেশগুলোতেও এমন উদাহরণ রয়েছে।

পিয়েরে ট্রুডো: কানাডার ১৫তম প্রধানমন্ত্রী।

জাস্টিন ট্রুডো: পিয়েরে ট্রুডোর বড় ছেলে। তিনিও কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৬. গ্রিস (পাপানদ্রিউ পরিবার)

গ্রিসেও এক পরিবারের তিন প্রজন্ম প্রধানমন্ত্রী হিসেনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কেন এমন হয়?

নামের পরিচিতি: বিখ্যাত পরিবারের সন্তান হওয়ায় ভোটারদের কাছে তারা আগে থেকেই পরিচিত থাকেন।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: ছোটবেলা থেকে রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা এবং নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়।

আবেগীয় সম্পর্ক: অনেক সময় নেতার মৃত্যুর পর জনগণের সহমর্মিতা তাদের ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে।

এমএসএম