জাতিসংঘ কিউবায় চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেল সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দ্বীপদেশটি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ, চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ রাখবেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হয়। ভেনেজুয়েলা এতদিন কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র মার্তা হুর্তাদো বলেন, এই পরিস্থিতি কিউবার জনগণের মানবাধিকারের ওপর ক্রমেই গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সব দেশকে একতরফা খাতভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এসব নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যাপক ও নির্বিচার এবং তা জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।
হুর্তাদো আরও জানান, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে তেলের ঘাটতির কারণে জরুরি সেবাগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগ ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি টিকা, রক্ত এবং তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিউবার ৮০ শতাংশের বেশি পানি উত্তোলন যন্ত্র বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিতে প্রবেশাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রকাশ্যেই হাভানায় সরকার পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
১৯৬২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র-এর বাণিজ্যিক অবরোধের মধ্যে থাকা কিউবা বহু বছর ধরেই গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি, ওষুধ ও খাদ্যের ঘাটতি চলছে।
জাতিসংঘ বলেছে, কিউবার উচিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম