খেলাধুলা

জয়াবর্ধনে ও দিলশানকে ছুঁলেন নিশাঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পথে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে শ্রীলঙ্কা। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং এবং দলীয় পারফরম্যান্স- সব দিক থেকেই নিজেদের সেরা ছাপ রেখে গেছে লঙ্কানরা। এই জয়ে শুধু ম্যাচই নয়, পরিসংখ্যানের পাতাতেও নতুন ইতিহাস লিখেছে শ্রীলঙ্কা।

সেই পরিসংখ্যানগুলোই তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য

২: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটার হলেন পাথুম নিশাঙ্কা। এর আগে ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। সে সঙ্গে এ টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটারও তিনি, যেখানে ২০১৪ সালে পাকিস্তানের ব্যাটার উমর আকমলের ৯৪ ছিল আগের সর্বোচ্চ।

এছাড়া ২০২২ আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্লেন ফিলিপসের ১০৪ রানের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। এই বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে গিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন নিশাঙ্কাসহ মাত্র তিনজন ব্যাটার।

১৮২: সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সফলভাবে তাড়া করা লক্ষ্য ছিল ১৮২ রানের। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে এটি তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার সাফল্য। যেখানে আগের রান তাড়া করার রেকর্ডটি ছিল ২০২২ সালে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭৭ রান তাড়ার রেকর্ড।

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এটি যে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড। ২০১৮ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ২১৫ রান তাড়া এখনো শীর্ষে।

এটি শ্রীলঙ্কার পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ রান তাড়া।

১: পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে একাধিক সেঞ্চুরি করা প্রথম শ্রীলঙ্কান ব্যাটার এখন নিশাঙ্কা। গত বছরের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন তার প্রথম সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার হয়ে একটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশান ও কুশল পেরেরার।

২-৪: পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়-পরাজয়ের রেকর্ড। এর আগে এই টুর্নামেন্টে একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০৯ সালে নটিংহ্যামে, যখন গ্রুপ পর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করেছিল তারা।

১০০*: রান তাড়ায় নিশাঙ্কার অপরাজিত সেঞ্চুরি। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান তাড়া করতে গিয়ে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। ২০১৮ সালে হারারেতে ফাখর জামানের ৯১ ছিল আগের সর্বোচ্চ।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটারও তিনি। ২০১১ সালে পাল্লেকেলেতে দিলশান করেছিলেন অপরাজিত ১০৪।

৪: শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে মোট শতকের সংখ্যা (নিশাঙ্কার এই ১০০* সহ)। চারটিই হয়েছে পাল্লেকেলেতে।

৫: এই টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচেই অর্ধশতক করেছেন কুশল মেন্ডিস। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করা পঞ্চম ব্যাটার তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে (২০১০), বিরাট কোহলি (২০১৬-২০২১), বাবর আজম (২০২১) এবং লোকেশ রাহুল (২০২১)।

১২.২৩: ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের উদ্বোধনী জুটির রানরেট, যারা ৫১ বলে ১০৪ রান যোগ করেন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা, যেখানে উদ্বোধনী জুটি শতরানের বেশি করেছে এবং প্রতি ওভারে ১২-এর বেশি রান তুলেছে, তবুও দল ম্যাচ হেরেছে।

হেড-মার্শ জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটি, যারা শেষ পর্যন্ত হারের মুখ দেখেছে। আগের দুটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ ও ২০০৯ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে।

১৮১: পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ, যেখানে ৮ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৯৭/০। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে (যেখানে বল-বাই-বল তথ্য পাওয়া যায়) প্রথম ৮ ওভারে উইকেট না হারিয়ে ৯০-এর বেশি রান করার পর এর চেয়ে কম মোট রান করেছে মাত্র একটি দল- ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সৌদি আরব, যারা ৮ ওভারে ৯২/০ থেকে শেষ পর্যন্ত করেছিল ১৭৮/৮।

আইএইচএস/