দেশজুড়ে

টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে মাদক কারবারিদের গুলি বিনিময়

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবির পৃথক দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বিজিবির সঙ্গে মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, রাত ১টার দিকে ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা নাফ নদী ও কেওড়া জঙ্গলসংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চোরাকারবারিরা তাদের বহন করা ইয়াবা ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান। কেউ নাফ নদী হয়ে পিছু হটেন, ৪-৫ জন চোরাকারবারি বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে গ্রামের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে কার্যকর গুলি চালায়নি বলে জানানো হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়ার সময় হ্নীলা চৌধুরী পাড়া এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতদলের মুখোমুখি হতে হয় চোরাকারবারিদের। ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ডাকাতদল তাদের ওপর গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত নৌবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সহায়তা চায়। পরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক অভিযানে এটি অন্যতম বড় ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা।

এর আগে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দুই লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

জাহাঙ্গীর আলম/এসআর/জেআইএম