অর্থনীতির গতি ফেরাতে ব্যবসায়ীরা নতুন সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার নিশ্চয়তা চান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা সংক্রান্ত বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ী সমাজ কী প্রত্যাশা করছে?আমরা প্রথমেই যেটা চাই, সেটা হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে হলে এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ব্যাংকখাতে লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারকে কার্যকর ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এমন নীতি দরকার, যা অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করবে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পর অর্থনীতি সচল করতে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়াই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত ছিলেন, বিশেষ করে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গে।
আরও পড়ুনঅর্থনীতি চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস চান ব্যবসায়ীরা
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের
বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে চাই সুশাসন ও নীতির ধারাবাহিকতা
আমরা মনে করি, নতুন সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অন্তত তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেবে। যদিও সময় খুব বেশি নেই, তারপরও একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কারণ হঠাৎ করে গ্র্যাজুয়েশন হলে আমাদের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়বে।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংকখাতে যে চরম অব্যবস্থাপনা চলছে, বিশেষ করে রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে—এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। ব্যাংকিং সংকটের কারণে রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেখানে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে ফান্ড সংকটের কারণে রপ্তানি বাধাপ্রাপ্ত না হয়।
ব্যাংকিং খাতে আপনারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?একদিকে তহবিল তথা ফান্ড সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, অন্যদিকে এলসি ওপেনিং নিয়ে জটিলতা। নানা অজুহাতে এলসি খুলতে বিলম্ব করা হচ্ছে। ফলে যথাসময়ে আমদানি করতে বিলম্ব হচ্ছে।
আগের সরকারের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে ব্যাংকগুলো লুটপাট হয়েছে এবং কীভাবে ব্যাংকের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন দেখছি, ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের টাকাই আটকে রেখে বা নানা জটিলতার মাধ্যমে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা অসহায়ভাবে সবকিছু দেখছি, কিন্তু কার্যকরভাবে কিছু করতে পারছি না।
সুতরাং, নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—ব্যবসায়ীদের এই সংকট থেকে উদ্ধার করা এবং ব্যাংকখাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা।
নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?অর্থনীতির চাকা সচল করতে গেলে সরকারকে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক যে বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের বিষয় যদি প্রশ্রয় না দেওয়া হয় এবং সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সরকার উন্নয়নের সঠিক ধারায় থাকতে পারবে।
বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে কোনো অস্থিরতা অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এসব ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি জরুরি।
অতীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?সরকার ও আমলাদের মধ্যে দূরত্ব তখনই বেড়ে যায়, যখন সরকারের হাতে শক্ত রাজনৈতিক ম্যান্ডেট থাকে না। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকে।
যেহেতু নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট নিয়ে আসছে, তাই তারা চাইলে আমলাতান্ত্রিক দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর তদারকি থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
আইএইচও/এএসএ