নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা নিয়ে ফরিদপুর পৌরসভায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সার্ভারে ভাতা প্রদানের তথ্য দেখালেও গত তিন মাস ধরে অনেক ভাতাভোগী নারী তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শহরের আলীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ভাতাভোগী পৌরসভায় গিয়ে এই অমিল দেখতে পান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৮৯ জন নারী বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। প্রতি ওয়ার্ড থেকে ৭ জন করে দরিদ্র মা এই সহায়তা পাওয়ার কথা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে ৩৬ মাসে মোট ২৮ হাজার ৮০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
দিলসাদ আক্তার, ফাতেমা ও তাসনিম জাহান মিমসহ একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও অনলাইন স্টেটমেন্ট যাচাই করে দেখা গেছে, অনেক নারীর প্রোফাইলে গত তিন মাসের মধ্যে দুইবার পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে সার্ভারে তথ্য দেখাচ্ছে। বাস্তবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা হয়নি।
ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ভাতা সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রহীতার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, তাই স্থানীয়ভাবে তাদের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি দরিদ্র, ভূমিহীন বা প্রতিবন্ধী মায়েদের সহায়তায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। গত জুলাই মাস থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনরায় এই ভাতার অর্থ ছাড় শুরু করে। তবে তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও টাকা না পৌঁছানোয় ভাতাভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে যে টাকাগুলো পর্যায়ক্রমে পাঠানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে কারিগরি কারণে অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।
এন কে বি নয়ন/এমএন/জেআইএম