দেশজুড়ে

মুন্সিগঞ্জে আ’লীগ কার্যালয় চালুর ভিডিও দেখে তালা ঝুলালো এনসিপি

মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় চালুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই কার্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় এনসিপি ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।

জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির সিরাজদিখান উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ।

তিনি বলেন, শনিবার রাতে কার্যালয়টি চালুর ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-ইউএনওকে তাৎক্ষণিক জানাই। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তৎপরতা না থাকায় নিজ উদ্যোগে উপস্থিত থেকে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এমনভাবে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছিল যেন প্রত্যাবর্তন হচ্ছে, কিন্তু আসলে কিছুই না। কিছু বাচ্চা নিয়ে তারা স্লোগান দিয়েছিল, এটাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আমরা চাই না ১৪শ খুনের বিচারের আগে বাংলাদেশে কিংবা মুন্সিগঞ্জে তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটুক। তবে যেহেতু দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, শুধুমাত্র তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে তাই আমরা বিশৃংখল কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করিনি। কিন্তু সতর্ক করছি যদি এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকে তাহলে শিগগিরই আমরা সাংগঠনিকভাবে সেটি প্রতিহত করবো।

এর আগে শনিবার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বীরতারা ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় চালু সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে কার্যালয়টিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের৷ স্লোগান দেওয়া ব্যক্তি সাব্বির বীরতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে ঘটনাটি কবেকার তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেটা একটি শার্টার লাগানো দোকান ঘর। ঘটনায় জড়িত সাব্বির দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক রয়েছেন। যেহেতু দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, ফলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুভ ঘোষ/এফএ/জেআইএম