শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও মারপিটের অভিযোগ এনে মামলা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানার কর্মী মো. আহাদ। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই এবার রুমিন ফারহানার কর্মীদের নামে মামলা দেন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের কর্মচারী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় এ মামলাটি করা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সরাইল উপজেলার দক্ষিণ কুট্টাপাড়ার তামিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তার বাড়ির সামনে ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে এজাহারনামীয় ১৭ জনসহ ১০০-১৫০ জন গালাগাল করতে থাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মারধর করার পাশাপাশি নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এদিকে রোববার দুপুরে আহাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার আনোয়ার হোসেন জামিন লাভ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরকারি কোনো আয়োজনে অংশ নিতে নিজ সংসদীয় এলাকায় এসে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার স্থানীয় শহীদ মিনারে প্রশাসনের সামনে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় রুমিন ফারহানার কর্মী আহাদ আহত হন। এ ঘটনায় শ্রদ্ধা না জানিয়েই রুমিন ফারহানাকে ফিরে আসতে হয়। রাতে সড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। গত দুদিন ধরে তার পক্ষে বিক্ষোভ হয়। পরে আনোয়ার হোসেনের পক্ষেও মিছিল বের হয়।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/আরএইচ/এএসএম