আন্তর্জাতিক

নতুন এমপিদের উপহার দিয়ে বিপাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চাপের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল বড় জয় পাওয়ার পর তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সংসদ সদস্যদের অভিনন্দনস্বরূপ উপহার বিতরণ করেছেন। এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এই চাপ তৈরি হয়েছে।

তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, ৩০০-এর বেশি আইনপ্রণেতাকে একটি ক্যাটালগ থেকে পছন্দমতো উপহার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, খুব কঠিন এই নির্বাচনে তাদের সাফল্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।

এই ঘটনা ২০২৩ সালে এলডিপিকে ঘিরে ওঠা তহবিল কেলেঙ্কারির স্মৃতি উসকে দিয়েছে, যার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পদত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি ইশিবার জোট গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।

প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্সের নেতা জুনিয়া ওগাওয়া বলেন, এই ক্যাটালগ বিতরণের খবর মানুষকে সহজেই বলতে বাধ্য করতে পারে—‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, আপনিও? তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তাকে কঠোরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে তাকাইচি জানান, প্রতিটি উপহারের মূল্য, পরিবহন খরচ ও করসহ প্রায় ৩০ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯০ ডলার)। এ অর্থ তিনি যে নারা প্রদেশভিত্তিক এলডিপি শাখার প্রধান, সেই শাখার রাজনৈতিক তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি এক্সে আরও লেখেন, আইনপ্রণেতাদের ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের কাজে এই উপহারগুলো সহায়ক হবে বলে তিনি আশা করেন।

জাপানের রাজনৈতিক তহবিল আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো প্রার্থীকে সরাসরি অনুদান দেওয়া যায় না, তবে রাজনৈতিক দল বা তাদের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে অনুদান দেওয়া বৈধ।

এর আগে, গত মার্চে শিগেরু ইশিবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের অর্থে ১৫ জন নবনির্বাচিত নিম্নকক্ষ সদস্যকে ১ লাখ ইয়েন মূল্যের উপহার সনদ বিতরণ করেছিলেন।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম