অর্থনীতি

গভর্নরকে অপসারণের খবরে ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার

বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এ খবরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। মাত্র ১০ মিনিটের লেনদেনেই পতন থেকে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে মূল্যসূচক।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের বেশিরভাগ সময় মূল্যসূচক ঋণাত্মক ছিল। এমনকি লেনদেন শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগেই সূচক ছিল ঋণাত্মক।

এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতেই ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। দেখতে দেখতে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে আজকে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্পসময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকা বড় হয়। ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। সূচকের ঋণাত্মক প্রবণতার মধ্যেই চলতে থাকে শেয়ারবাজারের লেনদেন।

লেনদেনের একদম শেষ মুহূর্তে খবর আসে- গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ সংবাদ টনিকের মতো কাজ করে। কারণ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা অনেক আগে থেকেই গভর্নরের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগর খবর পেয়ে অনেকেই শেয়ার কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। ফলে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে। এরপরও দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকে। অবশ্য মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫৪ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির। আর ৭২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৭ টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫১ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৪৭ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮২৪ কোটি ৮৯ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, কে অ্যান্ড কিউ, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং বিডি থাই ফুড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৪টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএএইচ/