নবজাতককে কোলে নেওয়া, আদর করা, মাথায় বা কানের পাশে হালকা চুমু - এসবই স্বাভাবিক ভালোবাসার প্রকাশ। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, শিশুর কানের খুব কাছে জোরে চুমু বা হঠাৎ শব্দ শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
নবজাতকের শরীর যেমন নরম ও কোমল, তেমনি ভেতরের অঙ্গগুলোও অনেক বেশি সংবেদনশীল। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর কানের নালি তুলনামূলকভাবে সরু থাকে। কানের পর্দা পাতলা এবং মধ্যকর্ণের ভেতরে বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না। ফলে চাপের সামান্য পরিবর্তনও তাদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
শিশুর কানে জোরে চুমু দিলে কী হতে পারে?চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কিছু বিরল ঘটনা আছে যেখানে কানের খুব কাছে জোরে চুমু খাওয়ার ফলে সাকশন তৈরি হয়ে কানের পর্দায় ক্ষতি হয়েছে। চুমুর সময় মুখের ভেতরের বাতাস হঠাৎ টেনে নেওয়া হলে কানের নালির ভেতরে চাপের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। নবজাতকের কানের গঠন যেহেতু এখনও সম্পূর্ণ শক্ত ও স্থিতিশীল হয়নি, তাই এই চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে।
তবে স্পষ্ট করে বলা দরকার - স্বাভাবিক, হালকা আদর বা দূর থেকে চুমু সাধারণত ক্ষতিকর নয়। ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন কানের একদম কাছে জোরে শব্দ করা হয়, শক্তভাবে ফুঁ দেওয়া হয় বা চুমুর সময় বাতাস টানার মতো চাপ তৈরি হয়।
শুধু চুমুই নয়, শিশুর কানের খুব কাছে উচ্চস্বরে কথা বলা, হঠাৎ চিৎকার, দরজা জোরে বন্ধ হওয়া বা উচ্চ ভলিউমে গান বাজানোও তাদের শ্রবণতন্ত্রের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। নবজাতকের শ্রবণব্যবস্থা এখনও বিকাশ হচ্ছে। এই সময় অতিরিক্ত শব্দের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কীভাবে নিরাপদ রাখবেন?শিশুকে আদর করতে চাইলে কানের ঠিক পাশে না গিয়ে গাল বা কপালে চুমু দিন। কানের কাছে ফুঁ দেওয়া বা শব্দ করা এড়িয়ে চলুন। ঘরের শব্দের মাত্রা মাঝারি রাখুন। শিশুর হঠাৎ কেঁদে ওঠা, কানে হাত দেওয়া বা অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা গেলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শিশুর শ্রবণশক্তি তার ভবিষ্যৎ ভাষা শেখা, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ছোট ছোট সতর্কতাই তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারস, জার্নাল অব পেডিয়াট্রিক ওটোল্যারিঙ্গোলজি
এএমপি/এএসএম