রাজধানীর ভাটারা এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর স্বামী জীবন হোসেন ওরফে মুকুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে দণ্ড কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি জামিনে মুক্ত থাকার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। রায়ের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালে মুকুলের সঙ্গে মোছা. ফাহিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার বয়স তখন ছিল মাত্র ছয় মাস। মুকুল চট্টগ্রামে ফার্নিচারের কাজ করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে তারা ঢাকার ভাটারা এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
আরও পড়ুনকাগজ দেখতে চাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে ‘মেরে রক্তাক্ত’ করেন ট্রাকচালক ১৫ মার্চের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে ইসির নির্দেশ
অভিযোগে বলা হয়, মুকুল পরনারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তিনি ফাহিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর তারা ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৭টার দিকে তাদের সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ফাহিমাকে পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানা যায়, ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন ফাহিমার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভাটারা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এদিন মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
এমডিএএ/কেএসআর