ফুটবলে সর্বোচ্চ সাফল্য পেলেও শৈশবে ইংরেজি ভাষা না শেখার জন্য আজও আফসোস করেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মিয়ামির এই তারকা ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানিয়েছেন, ছোটবেলায় পড়াশোনায় আরও মনোযোগী না হওয়াটা তার জীবনের বড় আফসোসগুলোর একটি।
মেক্সিকান পডকাস্ট ‘মিরো দে আত্রাস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী মেসি বলেন, ‘আমি অনেক কিছুর জন্য অনুতপ্ত। ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখাটা তার মধ্যে অন্যতম। সময় ছিল, অন্তত ইংরেজি শিখতে পারতাম। কিন্তু করিনি। এজন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত।’
ক্যারিয়ারে অসংখ্য বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা হলেও ভাষাজ্ঞান না থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে না পারার অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন তিনি। মেসি বলেন, ‘অনেক অসাধারণ ও বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কিন্তু ঠিকভাবে কথা বলতে না পেরে নিজেকে অর্ধেক অজ্ঞ মনে হতো। তখন মনে হতো—কী বোকামি করেছি, সময় নষ্ট করেছি।’
বর্তমানে নিজের সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বেশ সচেতন। মেসি বলেন, ‘ছোটবেলায় এসব বোঝা যায় না। এখন আমি আমার সন্তানদের বলি- ভালো শিক্ষা গ্রহণ করো, পড়াশোনা করো, নিজেকে প্রস্তুত রাখো। তাদের পরিস্থিতি আমার চেয়ে ভিন্ন, যদিও আমার কোনো কিছুর অভাব ছিল না।’
১৩ বছর বয়সে নিজ শহর রোজারিও ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান মেসি। তিনি স্বীকার করেন, আর্জেন্টিনায় তার শেষ স্কুল বছরটি ভালো যায়নি। ‘ওটা ছিল একেবারে বিশৃঙ্খল। আমি জানতাম, আমি বার্সেলোনায় চলে যাচ্ছি,’ বলেন তিনি। পরে বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় অন্যদের সঙ্গে থেকেই তিনি স্কুল শেষ করেন।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেই থেকে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন মেসি। ফুটবল তাকে কেবল খ্যাতি ও সাফল্যই দেয়নি, দিয়েছে জীবনের মূল্যবান শিক্ষা- এমনটাই মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই কিংবদন্তি।
মেসি বলেন, ‘ফুটবল আমাকে সবকিছু দিয়েছে এবং শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তবে পথচলায় অনেক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পেয়েছি। ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি জীবনধারা। এটি আপনাকে মূল্যবোধ শেখায়, আজীবনের বন্ধন তৈরি করে এবং নতুন নতুন জায়গার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।’
আইএইচএস/