আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল আগে হামলা চালালে সামরিক অভিযানের সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর প্রথমে হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ সুবিধাজনক হবে। এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জনসমর্থন অর্জন করা সহজ হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি দল এমনটা মনে করছেন বলে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ প্রকাশ করেছে পলিটিকো।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে এমন একটি চিন্তাধারা রয়েছে যে, যদি ইসরায়েল একাই আগে হামলা করে রাজনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সে পরিস্থিতি অনেক ভালো হবে। এমন অবস্থায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধ নেওয়া সহজ হবে। এতে করে এ হামলার পক্ষে বিশ্বমত গঠন করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।

তাদের দাবি, এই ভাবনার পেছনে মূল যুক্তি হলো-যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার কোনো মিত্র প্রথমে আক্রমণের শিকার হয় তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি আমেরিকান নাগরিকের সমর্থন পাব।।

একই সঙ্গে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এমন ধারণাও রয়েছে যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালাবেই।

তবে সম্ভাব্য হামলার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনাও বড় উদ্বেগের কারণ হিসবে দেখা হচ্ছে।

একটি সূত্র পলিটিকোকে বলেন, যদি আমরা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো বড় ধরনের হামলার কথা বলি, তাহলে ইরানের হাতে যা আছে সব দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে। ওই অঞ্চলে আমাদের অনেক সম্পদ রয়েছে, এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, এতে মার্কিন হতাহতের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকটিকে চলমান উত্তেজনার দিক ‘নির্ধারক’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যোগাযোগের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম হলেও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জেনেভার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে আরাঘচি বলেন, ইরান কখনোই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য পরিচালিত তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিত্যাগ করবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরান হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

কেএম