‘শনিবার বিকেল’ নামে একটি সিনেমা বানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সিনেমাটি নির্মাণ করে এর মুক্তি দিতে গিয়ে নানারকম বাঁধার সম্মুখিন হন। কয়েক দফায় সেন্সর বোর্ডে আটকে গিয়েও সিনেমাটি ছাড়পত্র পায়। তারপরও ছবিটির মুক্তির অনুমতি মেলেনি। সে নিয়ে অনেক ছুটোছুটি করেছিলেন ফারুকী। কাঠগড়ায় তুলেছিলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারকে।
ফারুকী আইনের বেড়াজালে বাক্সবন্দি সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ মুক্ত করতে ক্ষণে ক্ষণে সরব ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট, বিভিন্ন আন্দোলন-সভার আয়োজন করে ক্ষোভ আর হতাশার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তৎকালীন সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঠিক পথে চলতে শিল্পকর্ম নামক বিষয়টির ‘হেডলাইট জ্বালানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন ফারুকী। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আইনি পথে হাঁটারও।
ফারুকী নিয়েছিলেন নানা উদ্যোগ। যার একটির অংশ হিসেবে সিনেমাটির মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সারা যাকের, সৈয়দ জামিল আহমেদ, শিমূল ইউসুফ, আফজাল হোসেন, ছটকু আহমেদ, মোরশেদুল ইসলাম, তারিক আনাম খান, ঢালী আল মামুন, শামীম আখতার, মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, আনিসুল হক, শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, জাহিদ হাসান, তৌকীর আহমেদ, ক্যাথরিন মাসুদ, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, নুরুল আলম আতিক, ত্রপা মজুমদার, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, কামার আহমেদ সায়মন, রুবাইয়াত হোসেন, শাহিন সুমন, আহসান হাবীব নাসিম, রওনক হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, মেজবাউর রহমান সুমন, জাকিয়া বারী মম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, আজমেরী হক বাঁধন, আশুতোষ সুজন, আদনান আল রাজীব, রায়হান রাফীসহ আরো কয়েকজন।
এরপর ২০২৪ সালের রক্তাক্ত ও বীরত্বের জুলাই শেষে ছাত্র আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয় সেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান চলচ্চিত্রকার ফারুকী। কিন্তু তখনও তিনি ছবিটি মুক্তি দেননি। আর সে নিয়েই উঠছিলো নানা প্রশ্ন।
তার নেতৃত্বেই সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে ‘সার্টিফিকেশ বোর্ড’ গঠন করা হয়। সেই বোর্ড থেকে গেল ১৮ মাসে সনদ পেয়েছে শতাধিক চলচ্চিত্র। কিন্তু ‘শনিবার বিকেলের’ মুক্তি নিয়ে কোনো তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই।
অনেকে দাবি করছেন, ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমায় বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রতা আছে এমনটা দেখানো হয়েছে। দেশের মুসলিম সম্প্রদায় বিষয়টি সহজভাবে নেবে না ভেবেই নিজে দেশের সংস্কৃতির সর্বোচ্চ অভিভাবক হওয়া সত্বেও সিনেমাটি মুক্তি দেননি।
এমনই নানা গুঞ্জন নিয়ে এবার নিজেই সরাসরি মুখ খুলেছেন নির্মাতা ফারুকী। তিনি আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘শনিবার বিকেল কেন মুক্তি দিচ্ছেন না? অনেকেই মাঝে মধ্যেই আমার উদ্দেশ্যে এই হাওয়াই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন গত দেড় বছর। প্রশ্নের মধ্যে এমন একটা ভাব লুকাইয়া রাখা আছে অ্যাজ ইফ আমি এখন উগ্রবাদ নিয়া কথা বলতে ভয় পাই। হাহাহা।
বাস্তবতা হইলো ছবিটা সনি লিভে মুক্তি পাওয়ার পর হাজার হাজার অনলাইন লিংক ছড়াইয়া পড়ে। যার দেখার সে দেখে ফেলছে। আর কারো দেখা বাকী থাকলে সে এক সেকেন্ডেই দেখতে পারবে। অনলাইনে অ্যাভেইলেবল একটা ছবি সিনেমা হলে কেনো মুক্তি দিচ্ছেন না- এই দাবী একমাত্র তারাই করতে পারেন যারা সিনেমা ব্যবসার সাথে জড়িত না। বাংলাদেশের বাজারে একটা সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিলে কত টাকা আয় করে এটা অন্দরমহলের লোক জানে। যেমন, আমাকে কিন্তু এনারা কেউ বলবেন না, ব্যাচেলর সিনেমা হলে এখন মুক্তি দিচ্ছেন না কেনো? কারণ দেয়ার ইজ নো বিজনেস লেফট।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যারা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবতে আনন্দ পাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার ছোট মন্তব্য- আমি আমার বানানো সকল ছবিই ওউন করি। আগের মতোই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক (জ্বী ওটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ) যে কোনো উগ্রবাদ নিয়ে ছবিও করবো। শিল্পীর ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে যেমন সংকট থাকার কথা না, তেমনি চেতনার নামে শত শত মানুষ গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সংকট থাকার কথা না।’
তিনি শেষ করেছেন, ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’- লিখে।
ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমায় দেশ বিদেশের তারকারা অভিনয় করেছেন। তারমধ্যে বাংলাদেশের মামুনুর রশীদ, জাহিদ হাসান, ইরেশ যাকের, ইন্তেখাব দিনার, নুসরাত ইমরোজ তিশা অন্যতম।
এলআইএ