ইরানের ওপর ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি শনিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশনের এক কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, জাহাজগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছ থেকে ভিএইচএফ ট্রান্সমিশন পাচ্ছে যে, ‘কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না’।
এই প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি রুট, যা সৌদি আরব, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বৃহত্তম উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার মালিক, তেল প্রধান এবং ট্রেডিং হাউজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করেছে এবং তেহরান জানিয়েছে, তারা নৌচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছু বাণিজ্যিক সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একটি প্রধান ট্রেডিং ডেস্কের এক শীর্ষ নির্বাহী বলেন, আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন সেখানে থাকবে। ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরার মতো বড় বন্দরের পাশে জাহাজগুলো রাখা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করছে না।
গ্রিসের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয় শনিবার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত এবং ইরানসহ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করে এবং কাতার থেকে প্রচুর পরিমাণে এলএনজি আসে।
জার্মান কন্টেইনার-শিপিং গ্রুপ হাপাগ-লয়েড বলছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব জাহাজ পরিবহন স্থগিত করছে।
টিটিএন