মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, তারা ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ বিকল্প পরিকল্পনা (কনটিনজেন্সি প্ল্যান) সক্রিয় করেছে।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে জবাব দেয় ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক রুটে বহু ফ্লাইট বাতিল বা বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এয়ারলাইন্সগুলো।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকট টুর্নামেন্ট পরিচালনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে না। তবে খেলোয়াড়, দলীয় ব্যবস্থাপনা, ম্যাচ কর্মকর্তা, সম্প্রচার দল ও ইভেন্ট স্টাফ- অনেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব শেষে দেশে ফেরার জন্য উপসাগরীয় হাব বিমানবন্দর, বিশেষ করে দুবাই (ডিএক্সবি), ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন।’
এ পরিস্থিতিতে আইসিসির ট্রাভেল ও লজিস্টিকস টিম বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাব হয়ে বিকল্প রুট নিশ্চিত করার কাজ করছে। পাশাপাশি আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক আপডেট দিচ্ছেন। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় একটি বিশেষ ‘আইসিসি ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্ক’ও চালু করা হয়েছে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রোববার সুপার এইটের শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ ও ৫ মার্চ সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ ফাইনাল ম্যাচ।
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সূচি বা ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো পরিবর্তন নেই। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই যখন জমে উঠেছে, তখন মাঠের বাইরের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে আইসিসি বলছে, সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
আইএইচএস/