দেশজুড়ে

চুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষে নিহত জামায়াত কর্মীর দাফন সম্পন্ন, আটক ২

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজার এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৪৫) নিহতের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে নিহত হাফিজুরের মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৪টায় সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

জানাজায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেনসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ও রাত ৯টায় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে দুদফা জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্ববিরোধের জেরে ঘটা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। এরমধ্যে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অত্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জীবননগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাস জানান, জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জীবননগরসহ জেলায় শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

হুসাইন মালিক/এফএ/জেআইএম