মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অব্যাহতভাবে বাড়ছে তেলের দাম। মূলত তেল উৎপাদনকারী ওই অঞ্চল থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসির।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক দশমিক নয় শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন করা তেলের দাম প্রায় এক দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক ‘কাতার এনার্জি’ তাদের স্থাপনাগুলোতে ‘সামরিক হামলার’ পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় সোমবার প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়ে গেছে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি পুড়িয়ে দেবে।
আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি সোমবার (২ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, প্রণালিটি এখন থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কোনো জাহাজ এটি পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সেটি পুড়িয়ে দেবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে জাব্বারি আরও জানান, তারা তেলের পাইপলাইনগুলোতেও হামলা চালাবেন এবং এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবেন না।
জাব্বারির দাবি, এই উত্তেজনার ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণে জর্জরিত মার্কিনিরা এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তারা জেনে রাখুক, এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না।
টিটিএন