অর্থনীতি

ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের নথি তলব

বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নথি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ১৫ অক্টোবর মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি।

শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন, এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগ তদন্তে নিযুক্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরিন ও ছেলে মো. জারান আলী চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের কপি চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া তাদের ব্যক্তিগত নামে/ তাদের মালিকানাধীন/স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকলে ঋণের আবেদন, শাখার প্রস্তাব এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র ও ঋণ হিসাব বিবরণী চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক বিভিন্ন নথিও চেয়েছে দুদক।

ওই তলবি চিঠিতে বলা হয়, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে আট হাজার কোটি টাকা লেনদেন এবং এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শেল কোম্পানি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তথ্য দিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। ৩০ জুন মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এসএম/এমএএইচ/