বর্ষীয়ান অভিনেতা বৈদ্যনাথ সাহা (৭৩) আর নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
এদিন রাত ৯টার পরে যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে গুণী এই অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তার কফিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
বৈদ্যনাথ সাহা নাট্যাঙ্গনের এক অতি পরিচিত মুখ। অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্যও তিনি। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সময় থেকেই তিনি নাটকের সঙ্গে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী যশোরের প্রথম নাট্যদল তরঙ্গ নাট্যগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তিনি নাটকের ওপর বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন। যশোর ইনস্টিটিউট নাট্যকলা সংসদের আয়োজনে বিভিন্ন নাটকে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে অভিনয় ও পরিচালনা করেছেন।
১৯৮৮ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত নাটকে অভিনয় শুরু করেন। টেলিভিশনে নাট্য নির্মাতা কচি খন্দকারের রচনা এবং নির্দেশনায় ধারাবাহিক ‘তেলছাড়া পরোটা’ নাটকে তার অভিনয় শৈলী দেশজুড়ে বিশেষ পরিচিতিও এনে দিয়েছে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মডেল হয়ে অনেক বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দুর্দান্ত অভিনয় করে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী ও ৪ কন্যা সন্তান রয়েছে।
বর্ষীয়ান অভিনেতা বৈদ্যনাথ সাহার মৃত্যু সংবাদে যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার মৃত্যু সংবাদ শুনে সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ শহরের এইচ এম এম রোডস্থ তার বাসভবনে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীপাঙ্কর দাস রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নাটক ও চলচ্চিত্রে অবদান রেখে চলা বৈদ্যনাথ সাহা বহু প্রজন্মের দর্শক ও শিল্পীকে প্রেরণা দিয়েছেন। তার এই চলে যাওয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শূন্যতার সৃষ্টি হলো। মিলন রহমান/এফএ/এমএস