টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে পারফরম্যান্স ভালো না হলেও ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যে কারো জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে! কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সম্পর্কে এটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত মূল্যায়ন।
কিন্তু পছন্দের সেই ওয়ানডেতেই গত দুই-তিন বছরে টাইগারদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখি। এমনকি প্রতিপক্ষ যেই হোক, বাংলাদেশ লড়াইটাও ঠিকমতো করতে পারছে না। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে ওয়ানডেতে এমন পারফরম্যান্সে সবারই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার কথা। ওয়ানডে দলের অন্যতম সিনিয়র ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে মিডল অর্ডার নিয়েই চিন্তার জায়গাটা বেশি।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ১২তম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় সেন্ট্রাল ও নর্থ জোন। ৫ উইকেটের ব্যবধানে নর্থ জোনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেন্ট্রাল জোন।
ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে আসা নর্থ জোনের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ ও সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্করণে টানা ব্যর্থতা নিয়েও একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
ওয়ানডেতে শেষ তিন সিরিজের ৯ ম্যাচে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়া সিরিজে কোনো ম্যাচেই ২০০ রান করতে পারেনি টাইগাররা, এমনকি খেলতে পারেননি ৫০ ওভারও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেও একই দৃশ্য, সব ম্যাচেই গুটিয়ে গেছে ৫০ ওভারের আগেই।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে ২৯৬ রান করলেও বাকি দুই ম্যাচে ২০০ পার হয়েই ইনিংসের ইতি টেনেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ব্যাটারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ওয়ানডেতে টানা ব্যর্থতায় শান্তও ৫০ ওভার খেলতে না পারা এবং মিডল অর্ডারে ব্যাটারদের রান খরায় ভোগার কথা বললেন।
নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা লাস্ট ১০টা-১২টা ওয়ানডে যাই খেলছি, ঠিকমতো ৫০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারিনি। এটা একটা চিন্তার জায়গা যে আমরা কিভাবে, বিশেষ করে মিডল ওভারে ভালো ব্যাটিং করে এই ইনিংসটা শেষ করতে পারি।’
সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে যারপরানাই অসন্তষ্ট শান্ত। তিনি বলেন, ‘বিসিএল টুর্নামেন্ট দেখেন, প্রত্যেকটা টিমই কিন্তু এই একইভাবেই ক্রিকেট খেলছি আমরা। খুবই হতাশাজনক, বিশেষ করে আমি যদি আমার টিমের কথাই বলি। খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স। আমার মনে হয় অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে এখানে যে চারটা টিম আছে, সব দলেই ৫০-৬০-৭০টা করে ওয়ানডে খেলা প্লেয়ার আছে, অন্তত লিস্ট এ।’
‘এরকম জায়গায় আমার মনে হয় যে ব্যাটিং ইউনিটের আরেকটু ধারাবাহিক হওয়া দরকার ছিল, আরও বেশ কিছু ১০০ হওয়া উচিত ছিল এবং ৫০ ওভারটা ডমিনেট করে ব্যাটিং করা উচিত ছিল যেটা হয়নি। এটা একটা হতাশাজনক ব্যাপার। যেটা আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটেও হচ্ছে। আমাদের এই জায়গাটাতে আরও বেশি ফোকাস হওয়া উচিত এবং সামনে পাকিস্তান সিরিজ এখান থেকে কিভাবে আমরা এই জায়গাটা ওভারকাম করতে পারি এটা ইম্পরট্যান্ট। যদিও এই টুর্নামেন্টের আগে একটা ভালো টুর্নামেন্ট হয়েছে এই সিরিজের আগে। এটা একটা বাড়তি হেল্প করবে। আমি আশা করব যে এই জায়গাটা আমরা ভালোভাবে ওভারকাম করতে পারব।’
ধারাবাহিকভাবে ওয়ানডেতে ব্যাটারদের ব্যর্থ হওয়ার পিছনে সাম্প্রতিক সময়ে টানা টি-টোয়েন্টি খেলাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শান্ত। জাতীয় দলের এই বাঁ-হাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় লাস্ট লাস্ট এক-দেড় বছর অনেক বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা হচ্ছে। এটা একটা কারণ হতে পারে। ব্যাটারদের মাথায় সবসময় এই জিনিসটা কাজ করছে স্ট্রাইক রেট.., স্ট্রাইক রেট..., বড় শট খেলা।’
চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়েসহ একাধিক ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই সিরিজগুলোতে ব্যাটারদের ব্যর্থতা কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, এই প্রশ্নে শান্তর উত্তর, ‘আমার মনে হয় স্পেশালি মিডল ওভারে বা নতুন বলটা হ্যান্ডেল করে নতুন বলে কিভাবে উইকেট না দেওয়া বা মিডিল ওভারে কিভাবে স্ট্রাইক রোটেশন করে খেলাটা লম্বা নিয়ে যাওয়া। এই জিনিসগুলোতে আমার মনে হয় একটু আমরা মিস করতেছি প্রত্যেকটা ম্যাচেই। এই জায়গাটাতে আরেকটু কিভাবে শান্ত থেকে আরেকটু ইনিংসটাকে বিল্ড করে চার ছক্কার দিকে বেশি চিন্তা না করে কিভাবে ইনিংসটা বিল্ড করা যায় স্ট্রাইক রোটেট করে করে। এই জায়গাটাতে যদি আমরা ইম্প্রুভ করতে পারি তাহলে আপনি দেখবেন যে ৫০ ওভারটা আমরা ডমিনেট করে ব্যাটিং করতে পারছি।’
এসকেডি/আইএইচএস