খেলাধুলা

বিজয়ের চ্যালেঞ্জের জবাব না দিয়ে কেন ঝুলিয়ে রেখেছে বিসিবি?  

 

এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর শফিউল ইসলামের মতো তিন-তিনজন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার কি সত্যিই ২০২৪-২০২৫ সালের বিপিএলে ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন?

আইসিসির সাবেক দুর্নীতি দমন প্রধান কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে বিসিবির করা ইন্টিগ্রিটি ইউনিট যে বেশ নেচে-কুঁদে তদন্ত করে বিজয়, সৈকত, শফিউলসহ মোট ৯ ক্রিকেটারকে এবারের বিপিএল খেলা থেকে বিরত রাখার প্রেসক্রিপশন দিয়েছিল বিসিবিকে, সেটা কি সঠিক ছিল? সত্যিই দোষী বিজয়-সৈকতরা?

যত সময় গড়াচ্ছে প্রশ্নটা ততই জটিল হচ্ছে। অনেকের মনেই এ প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে।

বলা বাহুল্য, আগেরবার (২০২৪-২০২৫) বিপিএলে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত ছিলেন। তাই তাদের এবারের বিপিএল থেকে বাইরে রাখার পরামর্শ দেন অ্যালেক্স মার্শাল। আর তা মেনে বিসিবিও বিজয়, মোসাদ্দেক সৈকতের মতো প্রতিষ্ঠিত পারফরমারকে নিলামের বাইরে রাখে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। আর সে কারণেই এবারের বিপিএল খেলা হয়নি বিজয় ও মোসাদ্দেকের।

কিন্তু তার পরপরই জানিয়ে দেওয়া হয় যে বিজয় ও মোসাদ্দেক এনসিএল, বিসিএল খেলতে পারবেন।

বিসিবির ভাড়া করে আনা অ্যালেক্স মার্শালের দুর্নীতি দমন সংস্থার রায়ে বিজয়সহ ৯ ক্রিকেটারের আচরণ সন্দেহজনক। সরাসরি তাদের ফিক্সার না বললেও অ্যালেক্স মার্শালের রায়ে বিজয়সহ ৯ ক্রিকেটার অভিযুক্ত।

কিন্তু তারা আদৌ দোষী কিনা? সত্যিই তাদের বিরুদ্ধে পাতানো খেলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে কিনা? খোদ এনামুল হক বিজয়ই এ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার মিডিয়ার সঙ্গে আলাপে অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বোর্ড কর্তা, বিপিএল কর্তৃপক্ষ এবং বিসিবির ইন্টিগ্রিটি কমিটির কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিজয়। তার দাবি, ‘আমি কিছু করিনি। করলে প্রমাণ দেখান।’

অন্তত এই ইস্যুতে বিজয় একা নন। ক্রিকেট অনুরাগীদের বড় অংশও তাই মনে করেন। বিসিবির ভেতরেও এই ইস্যুতে স্পষ্ট দ্বিধা-বিভক্তি আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্তাও জাগো নিউজের কাছে এ বিষয়ে নিজেদের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তাদেরও কথা, ‘বিষয়টি এতদিন ঝুলিয়ে রাখার মানে কী? আমরাও বুঝতে পারছি না।’

সত্যিই বিজয়-মোসাদ্দেক পাতানো খেলায় জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে তা জানিয়ে দেওয়া হোক। এভাবে সন্দেহ করে তাদের বিপিএল খেলতে না দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক? সে দাবিও তোলেন অন্তত জনতিনেক বোর্ড পরিচালক।

সবার প্রশ্ন, সত্যিই যদি বিজয়-মোসাদ্দেকরা পাতানো খেলায় জড়িত থাকেন এবং তাদের বিপক্ষে পরিষ্কার সাক্ষ্য-প্রমাণ সবই থাকে, তাহলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হচ্ছে না কেন? যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েই থাকেন, তাহলে তাদের বিপক্ষে শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হোক। কিন্তু তা না করে তাদের বিপিএলের বাইরে রেখে এনসিএল আর বিসিএল খেলার অনুমতি দেওয়া কেন?

এসব প্রশ্নের সত্যিকার ও প্রকৃত উত্তর যার সবচেয়ে ভালো দেওয়ার কথা, তিনি হলেন বিসিবি সভাপতি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কিন্তু তিনি তো দেশে নেই। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা কল-কোনোটারই জবাব দেন না।

তাই বিসিবি প্রধান বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান ইফতিখার রহমান মিঠুর ভাষ্য হলো, ‘আমি যেহেতু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মেম্বার সেক্রেটারি, আমাকে ওই বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই পারেন। তবে সত্যি কথা কী, আমিও জানি না। কারণ অ্যালেক্স মার্শালকে আনা হয়েছে একটি আলাদা ইউনিট ‘ইন্টিগ্রিটি ইউনিট’-এর প্রধান করে। সেটা আলাদা বডি। কাজেই তার কাজে নাক গলানোর সুযোগ নেই আমার। আমিও তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। অ্যালেক্স মার্শাল রিপোর্ট দিলেই কেবল আপনাদের জানাতে পারব, বিজয়–সৈকতরা কি সত্যিই দোষী, নাকি নির্দোষ।’

এআরবি/এমএমআর