তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। বলার কথাও নয়। কারণ, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তার চেয়েও বড় কথা, এই অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে এক যুগের বেশি সময় আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি।
কাজের প্রয়োজনে তাকে প্রায় সারা ক্রিকেট বিশ্বই ঘুরতে হয়েছে। কখনো আইসিসির সদর দপ্তর দুবাই, কখনো ওমান, কখনো ভারত, পাকিস্তান, চীন বা শ্রীলঙ্কা- এভাবেই কেটেছে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়কের গত ১২-১৩ বছর। একই সময়ে তার পুরো পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছে। তার স্ত্রী সেখানে ভালো চাকরি করেন। ছেলেরা পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা অস্ট্রেলিয়া। তাই মাসে না হলেও দুই মাসে একবার তিনি সেখানে যাবেন, কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন, তারপর দেশে ফিরবেন- এটাই স্বাভাবিক। প্রয়োজনে সেখান থেকেই মোবাইল ফোন বা জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে বিসিবির কাজ তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন- এ নিয়েও প্রশ্ন নেই।
প্রশ্ন হলো, বিসিবি সভাপতি হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গেলে কবে ফিরবেন- তা কেউ জানেন না কেন? এমনও হয়েছে, তিনি যে গেছেন সেটিও বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা জানতেন না।
অবশ্যই পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা সময় কাটানোর জন্য তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হিসেবে তার যাওয়া ও ফেরার সময়সূচি অন্তত বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানা থাকা বাঞ্ছনীয়।
কিন্তু এবারও তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন- কবে ফিরবেন, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, বোর্ড পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ইফতিখার রহমান মিঠু ও আমজাদ হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারাও নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। কী করে বলবেন? তারাই তো জানেন না!
এবার বাদ রইলেন বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন।
তিনি যখন অস্ট্রেলিয়া যান, তার পরদিন বিসিবি সিইও জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, বিসিবি প্রধান পারিবারিক প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়া গেছেন এবং তাকে জানিয়েই গেছেন। সে সময় বলা হয়েছিল, প্রায় দুই সপ্তাহ থাকবেন তিনি। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে তিন সপ্তাহও প্রায় শেষ- এখনও তার ঢাকায় ফেরার খবর নেই। এ নিয়ে খানিকটা বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহিও।
বোর্ডের এত শীর্ষ কর্মকর্তা যখন সভাপতির ফেরার দিনক্ষণ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হোম ওয়ানডে সিরিজ চলাকালেও বিসিবি সভাপতির দেখা মিলবে না। তিনি ফিরবেন আরও পরে- একেবারে ঈদ-উল ফিতরের পর। অর্থাৎ পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় ঈদ উদ্যাপন করেই দেশে ফিরবেন বিসিবি সভাপতি।
এআরবি/আইএইচএস/