ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে দুই বন্ধু দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র ‘তদন্ত’ শুরু করার কথা জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েল এই হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
মিনাবের গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর জানিয়েছেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ক্লাস চলাকালীন শাজারেহ তাইয়েবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি ১৬৮ জন ছাত্রী নিহত হয় এবং অন্তত ৯৫ জন আহত হয়। হামলার তীব্রতায় বিদ্যালয় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং কংক্রিটের ছাদ ধসে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরে আটকা পড়ে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন এই ঘটনাটি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।তিনি আরও যোগ করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শশানি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর-কে জানান, ওই এলাকায় আইডিএফ-এর (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) কোনো অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত নন। তিনি বলেন, এই বোমা হামলার জন্য কে দায়ী তা আমি জানি না।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, গত শনিবার ইরান অভিমুখে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই এই পরিকল্পিত হামলাটি চালানো হয়। ইরান এই হামলার জন্য সরাসরি এই দুই দেশকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল অতীতেও গাজা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন প্রাণঘাতী হামলায় জড়িত থাকার কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার নজির রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম