ঢাকার সিদ্দিকবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তিন বছর পার হলেও নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। ২৬ জনের প্রাণহানির সেই ঘটনায় তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আগামী ১ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৩ সালের ৭ মার্চ বিকেলে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার সিদ্দিকবাজারের নর্থসাউথ রোডের সাততলা ‘ক্যাফে কুইন’ ভবন। বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় ভবনের দুটি তলা ধসে নিচে পড়ে যায়। এতে ভবনের ২৪টি কলামের মধ্যে ৯টি এবং স্ল্যাব-বিম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনায় ভবনের বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীদের পাশাপাশি রাস্তায় থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীরাও প্রাণ হারান। বিস্ফোরণের দিন ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ জনে।
ঘটনার দুদিন পর, ৯ মার্চ বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত শুরু করে বংশাল থানা পুলিশ। পরে তা ডিবি পুলিশের মাধ্যমে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় দুই বছর ৯ মাস তদন্তের পর গত ডিসেম্বর মাসে তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কুইনস স্যানিটারি মার্কেটের ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমান এবং স্যানেটারি দোকানের মালিক আ. মোতালেব মিন্টুর অবহেলা ও লোভের কারণে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার অভিযোগপত্রটি নেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী।
ঘটনার দিন গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এমডিএএ/এএমএ