ময়মনসিংহের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি। ফলে একদিকে যানবাহন ও যাত্রীদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক পাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী পছন্দের ব্যক্তিদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ চালকরা মাঝেমধ্যেই এসব কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দিনব্যাপী মহানগরীর বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাচ্ছে জ্বালানি।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করেই জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেল সরবরাহে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মেনে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে যানবাহনের চালকদের ভাষ্য, শুক্রবার (৬ মার্চ) পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করার উদ্দেশ্যে বেশিরভাগ পাম্প মালিক জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। এতে যানবাহন নিয়ে চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। অনেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এখন সব পাম্পেই জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। কারণ বিভিন্ন পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। এখন জ্বালানি সরকারি নিয়ম মেনে নির্ধারিত পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে। তবে পাম্পের মালিকদের নির্দেশনা মনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে বেশি পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি করে স্বজনপ্রীতি করছেন।
নগরীর মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশন থেকে অকটেন নেন মোটরসাইকেল চালক আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরে জ্বালানি নিতে হচ্ছে। আমি এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুই লিটার অকটেন নিতে পেরেছি। তখন দেখেছি- পাম্পের এক কর্মচারী এক প্রাইভেটকারে ও এক মোটরসাইকেলে ফুল ট্যাঙ্কি জ্বালানি দিয়েছেন। পছন্দের ও পরিচিত ব্যক্তিদের এভাবে জ্বালানি দেওয়ায় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
নগরীর চায়নামোড় এলাকায় মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এই পাম্পের ম্যানেজার মো. কালাম বলেন, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বেঁধে দেওয়া সীমা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি বিক্রি বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, পাম্পের মালিক যেন জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে ও বাড়তি দামে বিক্রি না করেন সেজন্য বিভিন্ন পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এমএস