ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
যদিও হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে, তবুও সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আগে সাধারণত দ্রুত ও সীমিত সামরিক অভিযান পছন্দ করতেন। কিন্তু বর্তমান অভিযান ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের জন হপকিনস স্কুল অব অ্যাডভ্যানস্ড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের গবেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেও সক্রিয় করছে। এরই মধ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই যুদ্ধবিরোধী চাপ দ্রুত বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো এটি কতদিন চলবে এবং শেষ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য কী হবে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম