খেলাধুলা

তবুও লিগ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী মিঠুন

এখন যদিও আগের সেই জৌলুস, আকর্ষণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দর্শকপ্রিয়তা নেই বললেই চলে, তবুও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগই দেশের ক্রিকেটের একমাত্র মানসম্মত ওয়ানডে বা ৫০ ওভারের আসর।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে যত টুর্নামেন্টই থাকুক না কেন, এখনো সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ দেখা যায় এই ঢাকা লিগে। এটি শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণে একটি টুর্নামেন্টই নয়; ওয়ানডে ফরম্যাটে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্রও এই লিগ।

বয়সভিত্তিক দলে খেলে যারা জাতীয় দলে জায়গা পেতে আগ্রহী, সেই তরুণ ক্রিকেটাররা উন্মুখ হয়ে থাকেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য। আজকের আলোচিত পারফরমার তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম,ও রাকিবুল হাসান — যতই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মাঠ মাতিয়ে থাকুন না কেন, তাদের সত্যিকার প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে এই প্রিমিয়ার লিগেই। এছাড়া মারকুটে ওপেনার তরুণ হাবিবুর রহমান সোহানেরর উত্থানও বলা চলে এই ঢাকা লিগ থেকেই।

ঢাকা লিগের আরেকটি বড় গুরুত্ব হলো — এটি বাংলাদেশের দুই শতাধিক ক্রিকেটারের মিলনমেলা। এত বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ আর কোনো লিগে দেখা যায় না। এদের অর্ধেকের বেশি ক্রিকেটার বিপিএল কিংবা জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ পান না। জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ প্রায় একশ ক্রিকেটারের সুযোগ হয়। বাকিরা এই প্রিমিয়ার লিগ খেলেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের কাছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ যেন ‘অন্ধের যষ্টি’।

কিন্তু মার্চের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এবারের প্রিমিয়ার লিগের কোনো খবর নেই। গত মাসের মাঝামাঝি, অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি দলবদল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিও হয়নি। এতদিনে খেলা মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও এখনো কিছুই হয়নি।

এদিকে ক্রিকেটাররা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। লিগ না হলে পারিশ্রমিক মিলবে না। আর পারিশ্রমিক না পেলে সারা বছর চলবেন কীভাবে, এমন ভাবনায় বিভোর শতাধিক ক্রিকেটার।

তাদের এই দুশ্চিন্তা নিয়ে বোর্ড কী ভাবছে? ঢাকা লিগের আয়োজক সংস্থা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)-এর সিদ্ধান্তই বা কী?

জানা গেছে, নির্বাচন বয়কট করা ক্লাবগুলো শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে আছে। অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার অযাচিত হস্তক্ষেপ ও সরকারি প্রভাবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না — এমন দাবিতে ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের প্রায় ৮৫ শতাংশ আগেই লিগ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালক পরিষদ এখনো তাদের মাঠে ফেরাতে পারেনি। সিসিডিএমও কার্যত হাত গুটিয়ে বসে আছে। অন্যদিকে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্লাব ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে সমাধানের পথে না গিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, লিগ না হলে ক্রিকেটারদের কী হবে?ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিয়েটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) কী ভাবছে?

কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা লিগ আমাদের দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর। এই লিগ খেলেই শতাধিক ক্রিকেটারের জীবন চলে। তাদের কথা ভাবলে মন খারাপ হয়ে যায়। লিগ না হলে তারা কী করবে, কীভাবে চলবে সেটাই বড় প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনাও খুব একটা দেখছি না। বিসিবির সঙ্গে কোয়াবের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তেমন সাড়া মেলেনি। তাই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে আমি অনেকটাই সন্দিহান।’

ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মিঠুন বলেন, ‘ক্রিকেটাররা চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে, কবে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে। আমি এখনো আশা ছাড়িনি। দেখা যাক সামনে কী হয়।’

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন ওঠায় বর্তমান বোর্ড হয়তো খুব বেশি দিন দায়িত্বে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন বোর্ড গঠিত হলে তখন প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

কারণ সামনে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি, সফর এবং বর্ষা মৌসুম চলে আসবে। তখন লিগ আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবুও আশাবাদী কণ্ঠে মিঠুন বলেন, ‘সিঙ্গেল লিগ হলেও যদি আয়োজন করা যায়, সেটাই ভালো। তাতে অন্তত ক্রিকেটাররা কিছু পারিশ্রমিক পাবে। সব ক্রিকেটার তো জাতীয় দলে খেলার জন্য খেলেন না। অনেকের জন্যই ক্রিকেট একটি পেশা, রুটিরুজি। তারা অন্তত সংসার চালানোর মতো কিছু অর্থ পাবে।’

এআরবি/আইএন